৩২ শতাংশ দর বেড়েছে প্রভাতী ইন্সু্যরেন্সের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা খাতের কোম্পানি প্রভাতী ইন্সু্যরেন্স কোম্পানি লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩২ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৫৪ লাখ ১৫ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১২ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ২৮ শতাংশ বা এক টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৬ টাকা ৮০ পয়সায় হাত বদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৫০টি শেয়ার মোট এক হাজার ৪৯৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ৪৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৭ টাকা ৪০ পয়সায় হাত বদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ১৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।

সম্প্রতি কোম্পানিটির ঋণমান অবস্থান (ক্রেডিট রেটিং) নির্ণয় করেছে আরগুস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিমিটেড (এসিআরএসএল)। তথ্যমতে, কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদে রেটিং পেয়েছে 'এ এ' এবং স্বল্প মেয়াদে পেয়েছে 'এসটি২'। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবদেন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের আলোকে এ রেটিং সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৭৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৫৯ পয়সা। এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময়ে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৭৪ পয়সা ও এনএভি ১৬ টাকা ৮৪ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে পাঁচ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা তার আগের বছর ছিল পাঁচ কোটি সাত লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় 'এ' ক্যাটেগরির এ কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ১২৫ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ২৯ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫২ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ৯৭ লাখ দুই হাজার ৫০৫টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৬ দশমিক দুই শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৪ দশমিক ৯২ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৪ দশমিক চার।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গেস্নাবাল ইন্সু্যরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন চার কোটি ৭৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরোসপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে গেস্নাবাল ইন্সু্যরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ওই সময় কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৫৪ পয়সা এবং ৩১ ডিসম্বেরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়ায় ১১ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৩৭ পয়সা ও ১১ টাকা ৮৬ পয়সা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৩ টাকা ৯০ পয়সায় হাত বদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৩ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৯টি শেয়ার মোট এক হাজার ৪৭০ বার হাত বদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২৫ টাকায় লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৪ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়, যা তার আগের বছরে ছিল সাত শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৯২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ৫৫ পয়সা ও ১২ টাকা ২৯ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে 'বি' ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ চার কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট তিন কোটি ৬৭ লাখ ৮১ হাজার ৬৪৫টি শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ৪০ দশমিক ৬৮ শতাংশ শেয়ার।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফেডারেল ইন্সু্যরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন দুই কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরোসপ্তাহে হয়েছে ১২ কোটি ৯১ লাখ আট হাজার টাকার শেয়ার।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ বা ১০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১৪ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৪ টাকা। দিনজুড়ে ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ২৫২টি শেয়ার মোট ৬৭৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৭৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ১৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারদর আট টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। কোম্পানিটি ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে 'বি' ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬৭ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ছয় কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ছয় কোটি ৭৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮০৫টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের ৩২ দশমিক ৪৭ শতাংশ উদ্যোক্তা বা পরিচালক, প্রতিষ্ঠানিক ছয় দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬১ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।