রাঘববোয়ালরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িত নেপথ্যের রাঘববোয়ালরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবেন? দীর্ঘদিন ধরে যারা ক্যাসিনোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, চিহ্নিত সেই গডফাদাররা গ্রেফতার না হওয়ায় এমন প্রশ্ন এখন সর্বমহলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুবলীগের আরও অন্তত ৪০ নেতার নাম পাওয়া গেছে, যাদের নাম জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন পুলিশের কাছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছেন, যারা জি কে শামীমের টেন্ডারবাজির সঙ্গেও জড়িত। তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, এসব যুবলীগ নেতাকে এরই মধ্যে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা ক্যাসিনোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নজরদারিতে থাকা ওই সব রাঘববোয়ালের মধ্যে যুবলীগ উত্তরের ১২ জন এবং বাকিরা দক্ষিণের নেতা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ও নেপালি জুয়াড়িদের যারা পালাতে সহায়তা করেছেন, তাদেরও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া নেপালি নাগরিক ছাড়াও মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা মাছুমকে খোঁজা হচ্ছে। লোকমানের বিরুদ্ধেও তদন্ত হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত নেপালিরা। আর ক্যাসিনোর কারণে নামিদামি ক্লাবগুলো ইমেজ সংকটে পড়েছে। যেসব ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের অনুমতি নিয়ে খুলে দেওয়া হবে। তবে সেখানে শুধু স্বাভাবিক বিনোদন ও খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকবে।

 

জানা গেছে, ঢাকায় ক্যাসিনো বিস্তারে নেপালের নাগরিক দীনেশ ও রাজকুমারকে কাজে লাগান যুবলীগের কয়েকজন নেতা। ভিক্টোরিয়া ক্লাবে দীনেশ, রাজকুমার ও বিনোদ মানালি ক্যাসিনো চালাতেন। যুবলীগ নেতা আরমান ও খোরশেদ ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে প্রতিদিন তাদের চাঁদার ভাগ নিতেন। কলাবাগান ক্লাবে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন নেপালি নাগরিক দীনেশ, রাজকুমার ও অজয় পাকরাল। ক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজের তত্ত্বাবধানে সেখানে ক্যাসিনো চলত। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন নেপালি নাগরিক হিলমি। সেখান থেকে দিনে ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা তোলা হতো। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ছিল মহিউদ্দীন মহির নিয়ন্ত্রণে। দিলকুশা ক্লাবে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন নেপালের ছোট রাজকুমার। সেখান থেকে আরমান প্রতিদিন ৪ লাখ টাকা করে চাঁদা নিতেন। আরামবাগ ক্লাবে ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ। ক্যাসিনো থেকে প্রতিদিন ৩ লাখ টাকা করে চাঁদা নিতেন কাউন্সিলর সাঈদ। ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ ছিল খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার হাতে। কমলাপুর আইসিডির কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চীন থেকে অবৈধভাবে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আনেন তিনি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্রাটসহ সন্দেহভাজনের নামে-বেনামে সম্পদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। গ্রেফতার খালেদ ও শামীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। সূত্র জানায়, পুলিশ যাদের খুঁজছে তারা হলেন- যুবলীগ নেতা মতিঝিলের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন, যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান, সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপন, সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন মনা, জসীম উদ্দিন, মনির, খায়রুল, রানা ও উত্তরার শ্রমিক লীগ নেতা কাজী জাকারিয়া। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার ইকবাল সান্টু ও আরেক যুবলীগ নেতা গাজী সরোয়ার বাবু নজরদারিতে রয়েছেন। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং ধোলাইখালের মার্কেট ঘিরে গাজী সরোয়ার বাবুর ত্রাসের রাজত্বের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নানাভাবে বিভিন্ন সময় জিম্মি করে আদায় করেছেন মোটা অঙ্কের টাকা। পাশাপাশি যুবলীগ উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তবে কড়া নজরদারিতে আছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান। যুবলীগ কার্যালয়ের পিয়ন থেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্পাদক হয়েছেন তিনি। অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আনিসুর। যুবলীগের কমিটি কেনা-বেচায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।