বিনিয়োগে বড় বাধা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: অ্যামচেমের সভায় উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ দুই কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় আসছে না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দ্রুত সমাধানে মনোযোগী হতে হবে।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) মধ্যাহ্ন ভোজসভায় উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন।

অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম। সভায় অ্যামচেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অ্যামচেম সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১৭৬তম। ২০২১ সালের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে ১০০-এর মধ্যে আসার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু এজন্য অনেক কাজ করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক কাজ করা হলেও তা প্রত্যাশিত নয়।

বাংলাদেশ থেকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো একে একে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার কারণ অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সানোফি চলে যাচ্ছে। আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশি-বিদেশি সবার জন্য সমান আইনি বিধান থাকা দরকার। অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে।

ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যবসা সহজ করতে বিডার কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। এ অনুসারে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতিও হয়েছে। আশা করি আমরা আরও ভালো পর্যায়ে যাব। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়া, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ ও নিবন্ধনসহ কিছু বিষয় সহজ করা হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে। সব সেবাকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা চলছে।

সভায় দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগের নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন এবং প্রতিকারে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগে বিডার অনুমতির পর এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) একটি আদেশ জারি করে। এ আদেশ অনুযায়ী বিনিয়োগ করা কার্যত অসম্ভব।

এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন রশিদ বলেন, জ্বালানি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ২৭ ধরনের লাইসেন্স নিতে হয়। এতে অনেক সময় ব্যয় হয়। ব্যবসা সহজ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা প্রায় আগের মতোই রয়ে গেছে। এছাড়া কর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা জানান তিনি।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, বিদেশে এক কোটির ওপরে প্রবাসী বাংলাদেশি এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। আর ভারতে এক কোটি ৭০ লাখ প্রবাসী সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। আমরা দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারছি না বলেই আমাদের রেমিটেন্স কম আসছে। আবার আমাদের জনশক্তি দক্ষ হলেও সনদ নেই। অথবা আমাদের সনদ অন্য দেশ গ্রহণ করে না। ফলে অদক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

অন্য বক্তারা বলেন, বিভিন্ন দফতরে ফাইল চালাচালিতে অনেক সময় চলে যায়। অগ্রগতির কথা বলা হয়। কিছু অগ্রগতি কেবল কাগজে-কলমে হয়। বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এক জায়গায় আনা দরকার।

অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক অননুমোদিত বিদেশি নাগরিক কাজ করলেও তাদের খুব সামান্য পরিমাণ তথ্যই বিডার কাছে রয়েছে। এসব অননুমোদিত বিদেশি নাগরিক কর ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর কাজ করে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

মুক্ত আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্যে দেন- ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর ও আবদুল মোমেন লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মাঈনুদ্দিন মোমেন প্রমুখ।