খালেদার মুক্তিতে আন্দোলনের জন্য শপথ নেয়ার আহ্বান ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের জন্য একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করবো— এটাই হবে আজকের দিনে আমাদের শপথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যা লির আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন নেতা-কর্মীরা। র্যা লি শুরুর আগে সরকারের কর্মকাণ্ডের নানা সমালোচনা করেন নেতারা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে স্বাধীনতার মাসে নেতা-কর্মীদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কতগুলো শর্তও এসময় তুলে ধরেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন,’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের জন্য একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করবো। এটাই হবে আজকের দিনে আমাদের শপথ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আজ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। তারা সারাদেশে খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন অব্যাতহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করি, তাদের শপথ নিতে হবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার। যেসব নেতাকর্মী কারাগারে আছেন, তাদের মুক্তির জন্য, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য সোচ্চার দাবি তুলবো। আন্দোলন সংগ্রাম করে যাবো। খুব পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এদেশের মানুষ শান্তি চায়, তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়, গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। শত শত রাজবন্দি আছে, তাদেরও মুক্তি দিতে হবে।’

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির র্যা লিতে যোগ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দুপুরের পর থেকেই জড়ো হতে থাকেন।

দুপুর ২টায় বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে মালিবাগের শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।