তিন প্রান্তিকে সাড়ে ৭ শতাংশ রাজস্ব বেড়েছে লাফার্জহোলসিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সম্মিলিতভাবেলাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের রাজস্বআয় হয়েছে ১ হাজার ৩২৬ কোটি ২৭ লাখ ৮১হাজার টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়কোম্পানিটি রাজস্ব আয় করেছিল ১ হাজার ২৩২কোটি ৪৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এ হিসাবেতৃতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের রাজস্ববেড়েছে ৯৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা বা৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তীমুনাফা বেড়েছে ৬৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে ১৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। তিনপ্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ১৮০ কোটি ৮০ লাখ ৫ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরের একইসময় যা ছিল ১০৭ কোটি ৩৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এ সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৯৬ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরেরএকই সময় যা ছিল ১৪৭ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল ৪২ পয়সা। এ হিসাবে তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১৪০দশমিক ৪৮ শতাংশ।

তিন প্রান্তিক মিলে বাড়লেও শুধু তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লাফার্জহোলসিমের রাজস্ব আয় কমেছে। এ সময়কোম্পানিটির রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময় যা ছিল৩৮৪ কোটি ৬৫ লাখ ৯ হাজার টাকা। এ হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব কমেছে ২৮ কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।তবে রাজস্ব কমলেও আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পূর্ববর্তী ও কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। আর কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৮ কোটি ১৪ লাখ ৬২হাজার টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময় কর-পূর্ববর্তী মুনাফা ছিল ২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা। তবেকর পরিশোধের পর কোম্পানিটির লোকসান হয়েছিল ৩ কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

তৃতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৪ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, আগের হিসাববছরের একই সময় যা ছিল ৪৩ কোটি ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। ইপিএস হয়েছে ৩৩ পয়সা, যেখানে আগের হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৩ পয়সা।

কোম্পানিটি দাবি করছে, বাজারে সিমেন্টের চাহিদা কম থাকা ও দীর্ঘমেয়াদে বৃষ্টির কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রি ওরাজস্ব কমেছে। তবে বিক্রি কমলেও পরিচালন দক্ষতা ও ব্যয় সমন্বয়ের কারণে মুনাফা বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকেকোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানা বলেন, ২০১৮ হিসাব বছরের ধারাবাহিকতায়এ প্রান্তিকেও কোম্পানি ভালো পারফর্ম করেছে। আমরা কমার্শিয়াল ইনোভেশন, পরিচালন দক্ষতা ও ব্যয় সমন্বয়প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছি। তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরসঙ্গে আমরা নিজেদের যুক্ত করতে পেরেছি। আমাদের গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ের গ্রাহকদেরপাশাপাশি বড় প্রকল্পগুলোয়ও অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে লাফার্জহোলসিম।এ সময়ে কোম্পানিটির সম্মিলিত বার্ষিক ইপিএস ছিল ৯৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৪১পয়সা। ২০১৭ হিসাব বছরে শুধু লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ইপিএস হয় ৬৯ পয়সা। সে হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশনগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা।

২০১৬ সালে গ্রুপপর্যায়ে ফরাসি সিমেন্ট জায়ান্ট লাফার্জ ও সুইস কোম্পানি হোলসিম একত্র হয়। এরপর ধীরে ধীরেবিশ্বব্যাপী দুই গ্রুপের ব্যবসা একীভূত হয়ে আসে। বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্টেরমুখ্য শেয়ারহোল্ডার ছিল লাফার্জ গ্রুপ। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের ৭৪শতাংশ শেয়ার ছিল হোলসিম গ্রুপ তথা হোল্ডারফিন বিভির কাছে। এছাড়া ২১ শতাংশ সিয়াম সিটি ও সিয়াম সিমেন্টএবং বাকি ৫ শতাংশ শেয়ার ছিল স্থানীয় ট্রান্সকম গ্রুপের হাতে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে হোল্ডারফিন বিভিদুই গ্রুপের হাতে থাকা ২৬ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১১ কোটি ৭০লাখ ডলারে (ডলারের মান ৮০ টাকা ধরে ৯০০ কোটি টাকার বেশি) হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের শতভাগ সম্পদকিনে তা একীভূত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে হোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার বিক্রির অর্থ তারহেডকোয়ার্টারে পাঠানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চাওয়া হলে তারা অধিগ্রহণ বাবদ ৫০৪ কোটি ৭৮লাখ ১৯ হাজার ৯৪০ টাকা বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দেয়। অর্থাৎ প্রকারান্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হোলসিমবাংলাদেশের ৮৮ হাজার ২৪৪টি (শতভাগ) শেয়ারের জন্য এ মূল্যই নির্ধারণ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরনির্ধারিত মূল্যেই হোলসিমকে কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত করে লাফার্জ।

বর্তমানে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চারটি সিমেন্ট প্লান্ট রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত প্লান্টটিদেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ সিমেন্ট প্লান্ট।