ভোলার ঘটনার নেপথ্যে কারা জানা যাবে শিগগিরই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভোলার বোরহানউদ্দিন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য ছড়িয়ে সংঘাত সৃষ্টির পেছনে কে বা কারা ছিল তা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, ভোলার ঘটনায় আমরা কয়েকজনকে আটক করেছি। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, কে নেতৃত্ব দিয়েছে, কার কী উদ্দেশ্য ছিল- খুব শিগগিরই একে একে সব বের হয়ে আসবে।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রোববার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্ভাবনার এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি চক্র আবারও বাংলাদেশকে অকার্যকর প্রমাণ করতে এ ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ দেশের জনগণ এগুলো পছন্দ করে না। তাই কেউ শান্তি নষ্ট করতে পারবে না। কারণ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দেশের মানুষ চায় না।

সম্প্রতি শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করছেন, এর মাধ্যমে তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন। যেভাবে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এগিয়ে যাচ্ছেন, এতে যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে হয়তো আমরা আবারও পথ হারাব। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার সব স্তরের মানুষ তার জন্য দোয়া করছেন। তারা জানেন, শেখ হাসিনাই পারবেন দেশকে বদলে দিতে। এটা তিনি করে যাচ্ছেন।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের উদ্দেশে করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তোমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আছ, তাদের মনে রাখতে হবে, তোমাদের ধমনিতে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। এখনও আমরা যারা বেঁচে আছি সবাই একদিন বিদায় নেব। তোমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলবে, দেশের কথা বলবে, দেশের বীরত্বের কথা বলবে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, এটা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এ স্লোগান নিয়ে কিন্তু আমরা সংগঠিত হয়েছিলাম। প্রথমে তো আমাদের কাছে অস্ত্র ছিল না। স্লোগান দিয়ে আমরা জয় করেছি। এ স্লোগান দিয়ে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি।

মুক্তিযোদ্ধাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সব সময় চিন্তা করেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করেন, তাদের এগিয়ে নিতে কাজ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা তারই আমলে প্রবর্তিত হয়েছে।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম, সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদার, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সদস্য দেওয়ান সুলতান আহম্মেদ, খালেদ মোশারফ বীর উত্তম, ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মাহজাবিন খালেদ।