অসত্য তথ্য দেয়ায় বাদ পড়ছে ১৪৬ পোশাক কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

১৯৮৫ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পে রুগ্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয় ২৭৯টি প্রতিষ্ঠান।রুগ্ণ স্বীকৃতি দিয়ে সরকারও ২০১৩-১৪অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোরসম্পূর্ণ দায়-দেনা অবসায়নের অঙ্গীকার করে।পরবর্তী সময়ে তদন্তে দেখা গেছে, এর মধ্যেরুগ্ণ হিসেবে মিথ্যা দাবি ছিল ১৪৬টির।এগুলোকে বাদ দিয়ে বাকি ১৩৩ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেরব্যাংকের দায়-দেনা সম্পূর্ণ মওকুফের উদ্যোগনেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, তৈরি পোশাক শিল্পের প্রথম দিকেরউদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাংকেরঅসহযোগিতা ও ক্রেতার কারসাজিসহ নানা কারণে একের পর এক প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ ও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। সবমিলিয়ে রুগ্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার দাবি জানায় ২৯৭টি প্রতিষ্ঠান। সরকারের পক্ষ থেকেও রুগ্ণ স্বীকৃতি দিয়েপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়-দেনা অবসায়নের অঙ্গীকার করা হয়। পরবর্তী সময়ে এর মধ্যে ১৪৬টির দাবি মিথ্যা বলে তদন্তেবেরিয়ে আসে। সম্প্রতি বিজিএমইএর পক্ষ থেকে অন্য ১৩৩ রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকারিসুবিধা দাবি করা হয়। বিশেষ ভর্তুকি দিয়ে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়-দেনা অবসায়নের অনুরোধজানায় সংগঠনটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, সংগঠনের বিস্তারিত তদন্তে দেখা গেছে২৭৯টির মধ্যে অনেকগুলোরই দাবি মিথ্যা। সেগুলো বাদ দিয়ে প্রকৃত দাবির ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরকারেরঅঙ্গীকার অনুযায়ী সুবিধা চাওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে রুগ্ণ বা বন্ধ পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগনেয়ার পর ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে পোশাক শিল্পের এ ধরনের ২৭৯টি প্রতিষ্ঠানের সমুদয় ব্যাংকঋণঅবসায়নের ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তা জাতীয় সংসদে পাস হয়। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকেরআওতাধীন বিবেচনাযোগ্য রুগ্ণ বা বন্ধ পোশাক শিল্প রয়েছে ১৩৩টি।

জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে অর্থ মন্ত্রণালয় বরাবর এ ১৩৩ প্রতিষ্ঠানের দায়-দেনা অবসায়নের অনুরোধ জানায়বিজিএমইএ। পাশাপাশি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ পর্ষদের প্রতিনিধিদের এক সাক্ষাতেও এ নিয়েতাত্পর্যপূর্ণ আলোচনা হয়। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েআনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অনুরোধ জানানো হবে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর ভাষ্য, সংগঠন চিহ্নিত এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশও রয়েছে।সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে এসব প্রতিষ্ঠানের মূল ঋণের মোট পরিমাণ ২৩৮ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রণালয়কে গত মাসেই এ মূল ঋণের পাশাপাশি আরোপিত ও অনারোপিত সুদ ও কস্ট অব ফান্ডসহ সব চার্জমওকুফের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৬৪৯ কোটি টাকা। এছাড়া কাস্টমস (বন্ড) ও কর বিভাগেরসম্পূর্ণ দাবি মওকুফ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল বা নবায়নের সুযোগ দেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেসংগঠনটি।

রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকৃত রুগ্ণ ১৩৩ প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্তবাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রকল্প। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে সোনালী, রূপালী, পূবালী, অগ্রণী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকলিমিটেড। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইনভেস্টমেন্ট (বর্তমানে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক), এক্সিম, মার্কেন্টাইল, সাউথইস্ট, ন্যাশনাল, প্রাইম, এনসিসি, আইএফআইসি, উত্তরা, ন্যাশনাল, ডাচ্-বাংলা, আল-আরাফাহ্ ও দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড।

 

তালিকায় সুদ-আসল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যাংকঋণ রয়েছে সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার প্রকল্প তন্বীনিটওয়্যার লিমিটেড। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত এ প্রতিষ্ঠানের সুদ-আসল মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ ২৬ কোটি টাকা।এর মধ্যে আসল ১৪ কোটি টাকা। বাকি ১২ কোটি টাকা সুদ। তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ ১৫ কোটি ৮০লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার কাছ থেকে এ ঋণ নিয়েছিল ইয়ং ফ্যাশন প্রাইভেট লিমিটেড।