হাইব্রিড ল্যাপটপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ল্যাপটপ না ট্যাবলেট? বহনযোগ্য এ ডিভাইস দুটি কেনার ক্ষেত্রে হরহামেশাই দ্বিধায় পড়েন। বাজেট আর বহন করার ঝামেলা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই দুটিই ক্রয় করেন। কিন্তু যদি একটি কিনে দুটির সুবিধা পাওয়া যায় তাহলে কেমন হয়? সহজে বিচ্ছিন্ন ও রূপান্তরযোগ্য (কনভার্টেবল) এমন টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড ল্যাপটপ এখন বেশ জনপ্রিয়। এ ধরনের ডিভাইস একই সঙ্গে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার উভয়ের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। এক সময় কম্পিউটার মানেই ছিল ডেস্কটপ পিসি। পরে সহজে বহন করার প্রয়োজন মেটাতে বাজারে আসে পোর্টেবল কম্পিউটার তথা ল্যাপটপ। এরপর প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কম্পিউটারে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। কম্পিউটার পছন্দের ক্ষেত্রে আপনি চিরাচরিত নকশার সঙ্গে থাকতে বা তাল মেলাতে পারেন, আবার একটি ভালো ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেট সঙ্গে রাখতে পারেন; যা আপনাকে দৈনন্দিন কাজ ও বিনোদনে আরও সুবিধা ও কার্যকারিতা এনে দিতে সক্ষম হবে। তাই এখন আপনার প্রয়োজন ও ধরন অনুযায়ী টু-ইন-ওয়ানে ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন, একই সঙ্গে ট্যাব হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ট্যাবের চাহিদা হ্রাস পেলেও এই টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড ল্যাপটপ এখন ব্যক্তিগত কম্পিউটার শিল্পে দ্রুতবর্ধনশীল একটি পণ্য।

টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড ল্যাপটপ কী:

টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড ল্যাপটপ হলো একটি বহনযোগ্য ডিভাইস, যার দুটি দিক রয়েছে; একটি হলো কনভার্টেবল ল্যাপটপ আর অন্যটি ডিটাচেবল ট্যাবলেট কম্পিউটার বা ট্যাব। এটি একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড ল্যাপটপ বিচ্ছিন্ন ও রূপান্তরযোগ্য হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। এতে সাধারণ ল্যাপটপের মতোই দুটি অংশ থাকে, তবে ট্যাব হিসেবে ব্যবহারের জন্য সহজে রূপান্তর ও বিচ্ছিন্ন এবং পুনরায় সংযুক্ত করে ল্যাপটপ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো যায়। ফলে ব্যবহারকারীরা ইচ্ছেমতো বাঁকিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

সাধারণত ল্যাপটপে নিজস্ব কিবোর্ড থাকায় দুটি আলাদা অংশে সংযুক্ত থাকে, নির্দিষ্ট স্ট্ক্রিন থাকে। আর ট্যাবলেটে সবকিছুই টাচস্ট্ক্রিন ইন্টারফেস এবং এর ভার্চুয়াল কিবোর্ডের মাধ্যমে করা হয়। তাই আলাদা কিবোর্ডের প্রয়োজন হয় না। তবে উভয়ের প্রাথমিক মৌলিক নকশা ও কার্যক্ষমতা প্রায় একই। একটি রূপান্তরযোগ্য ল্যাপটপ মানে একটি টাচস্ট্ক্রিন পর্দা, যা একটি ল্যাপটপের মতো প্রচলিত ডিজাইনে তৈরি। ল্যাপটপটিকে একটি ট্যাবলেটে রূপান্তর করতে টাচস্ট্ক্রিন তৈরি, পর্দা ঘোরানো, পিভট করা বা ফ্লিপ করা হয়; যাতে এটি আবার বন্ধ অবস্থায় থাকে, তবে পর্দাটি উন্মুক্ত হয়। টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড রূপান্তরযোগ্য ল্যাপটপে জটিল প্রক্রিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে এটিতে সহজ ব্যবহার প্রক্রিয়া সংযোজন করা হয়েছে।

ভালোমন্দ:

অনেকে রূপান্তরিত ল্যাপটপের বড় সমস্যা হিসেবে এর বড় আকার ও অধিক ওজনের কথা বলেন। কিবোর্ড এবং পেরিফেরাল পোর্ট অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এটি সাধারণ ট্যাবলেটের চেয়ে আকারে বড় হওয়ায় ওজন বৃদ্ধি পায় বলে মনে করেন। এছাড়া রূপান্তরিত ল্যাপটপ সাধারণ একটি ট্যাবের আকারের চেয়ে বড় হওয়ায় ওজন বৃদ্ধি ও বর্ধিত সময়ের জন্য ব্যবহার করা এবং স্থানান্তর সহজ নয় বলে মত প্রকাশ করেন। কিন্তু কম শক্তি খরচ এবং কম তাপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে ল্যাপটপ কম্পিউটারও আকারে ছোট হয়ে আসছে। আর যখন এটি ট্যাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন ব্যবহারকারী ট্যাবে ল্যাপটপের সব উপাদান ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিচ্ছিন্ন ও রূপান্তরযোগ্য সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এ ল্যাপটপের আবেদন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ল্যাপটপ বনাম ট্যাবলেট:

ল্যাপটপ হলো বহনযোগ্য ব্যক্তিগত কম্পিউটার, যাতে প্রচলিত ডেস্কটপ কম্পিউটারের সব উপাদান বিদ্যমান। কিবোর্ড, স্পিকার, টাচপ্যাড, ওয়েবক্যাম ও মাইক্রোফোনের মতো প্রয়োজনীয় টুলস সংযুক্ত থাকে। বিদ্যুতের সরাসরি সংযোগ কিংবা চার্জ দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে ট্যাবলেট হলো এক ধরনের বহনযোগ্য কম্পিউটার। ল্যাপটপের চেয়ে ছোট এবং স্মার্টফোনের চেয়ে একটু বড়। তবে উভয় কাজের জন্য সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য ডিভাইস ট্যাবলেট। প্রচলিত কম্পিউটারে ব্যবহূত মাউসের পরিবর্তে স্পর্শকাতর পর্দা বা টাচস্ট্ক্রিন ও ভার্চুয়াল কিবোর্ডসম্পন্ন, যা স্ট্ক্রিনেই ব্যবহার করা যায়।

কেনার সময় খেয়াল রাখুন: 

বিগত বছরগুলোয় ল্যাপটপ প্রযুক্তিতে এসেছে বৈচিত্র্য। নামকরা ল্যাপটপ ব্র্যান্ডগুলো একের পর এক নতুন নতুন মডেল এনেছে বাজারে। এগুলোর আকার, রং ও দামেও রয়েছে ভিন্নতা। ফলে বাজেট অনুযায়ী পছন্দমতো ল্যাপটপ বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ল্যাপটপ কেনার সময় কয়েকটি জরুরি বিষয় মাথায় রাখলে যে কোনো ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই সহজ হয়ে উঠতে পারে।

বহনযোগ্যতা: ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহনযোগ্যতা। ল্যাপটপ নিয়মিত বহন করা প্রয়োজন হলে ছোট আকৃতি ও হালকা ওজনের ল্যাপটপ কেনা ভালো।

ব্যাটারি: ল্যাপটপের ব্যাটারির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এর ব্যবহার সময়। তাই এমন ল্যাপটপ বেছে নিন, যা কমপক্ষে আট ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। কিছু কিছু ল্যাপটপ আট ঘণ্টারও বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয়।

রেজ্যুলেশন: আপনার যদি বাজেটে সমস্যা না থাকে, তবে অবশ্যই ভালো রেজ্যুলেশনবিশিষ্ট ল্যাপটপকে প্রাধান্য দিন। ফটো এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, গেমিংসহ ভারি কাজেও সুবিধা দেবে এটি।

বাজেট ও টাচস্ক্রিন: টু-ইন-ওয়ান হাইব্রিড ল্যাপটপ দেখতে পুরনো মডেলের ল্যাপটপগুলোর মতো হলেও, এগুলো ট্যাবলেট মোডে রূপান্তরে অন্যতম সুবিধা। দাম একটু বেশি হলেও টাচস্ট্ক্রিন ও রূপান্তরযোগ্য বলে এ ল্যাপটপ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও সুবিধা উভয়ই বাড়ছে। বাজেট একটু বেশি হলে ভালোমানের ল্যাপটপ সহজেই কেনা যাবে।

কনফিগারেশন: প্রসেসর, র‌্যাম, এসএসডি ইত্যাদি নির্বাচন করুন বাজেটের দিকে খেয়াল রেখে। প্রসেসর, কোর আই ফাইভ বা পরবর্তী ভার্সন, ৮ জিবির অধিক র‌্যাম, ২৫০ জিবির অধিক এসএসডি-ল্যাপটপ হতে পারে একটি যুগোপযোগী পছন্দ। হার্ডডিস্কের বদলে এসএসডি (সলিড-স্টেড ড্রাইভ) বেছে নেওয়া বুদ্ধিদীপ্ত কাজ। ল্যাপটপের কার্যক্ষমতা, জটিল ও ভারি প্রোগ্রামগুলোয় খেয়াল রাখলে নিরবচ্ছিন্ন কার্য সম্পাদনে সক্ষম হবেন।

সেরা দশ টু-ইন-ওয়ান ল্যাপটপ: টেকরাডারের বিশ্নেষণ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এ বছরের সেরা দশটি টু-ইন-ওয়ান এবং হাইব্রিড ল্যাপটপ হলো- এইচপি স্পেকটার ৩৬০ ১৫টি, গুগল পিক্সেলবুক, আসুস ক্রোমবুক ফ্লিপ, এইচপি স্পেক্টার ৩৬০, ডেল এক্সপিএস ১৫ টু-ইন-ওয়ান, মাইক্রোসফট সারফেস বুক ২ (১৩ ইঞ্চি), লেনোভো ইয়োগা সি ৯৩০, মাইক্রোসফট সারফেস বুক ২ (১৫ ইঞ্চি) এইচপি ৩৬০, ১৫, এসার ক্রোমবুক স্পিন ১১। এসব ল্যাপটপের বাজেট সাধারণত একটু বেশিই হয়ে থাকে।