দাবি পূরণ না হলে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি বুয়েট শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে ১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফের কঠোর অবস্থান যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা চারটায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাহমুদ রহমান সায়েম ও অন্তরা তিথি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে থাকা বুয়েট ছাত্রী অন্তরা মাধুরী তিথি বলেন, জানি, আমরা কিছুদিন পিছিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা তো অপেক্ষা করতে পারি না যে, আমাদের মধ্য থেকে আরেকটা আবরার আসুক। আমাদের সঙ্গেও ব্যাপারটা হতে পারে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে, আমরা একাডেমিক অসহযোগে আছি।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বুয়েট ছাত্র মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, বুয়েট থেকে পাস করার পর সবাই কোথাও না কোথাও যাবে। কিন্তু তিন সপ্তাহ আগে আবরার কবরে চলে গেছে, ও আর কোথাও যাবে না। তাই যত দিন পর্যন্ত আবরার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হচ্ছে, আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে পারি না। আমরা হয়তো কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর চলে যাব, কিন্তু নতুন যারা আসবে, তাদের জন্য একটা সুষ্ঠু-সুন্দর ক্যাম্পাস রেখে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের ওপরও বর্তায়। বুয়েটে প্রশাসন কার্যক্রম চলছে, চলুক। কিন্তু যত দিন না আমরা বিশ্বাস করতে পারছি যে, বুয়েটে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং মামলার অভিযোগপত্রে নাম আসাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হচ্ছে, তত দিন আমাদের একাডেমিক অসহযোগ চলবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা চাই না প্রশাসনে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ পারস্পরিক দোষারোপ করে কাজের গতি স্থবির করে দিক। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এখনও রয়ে গেছে মন্তব্য করে তারা বলেন, এরই মধ্যে সময় অনেক গড়িয়েছে। প্রশাসন তৎপর হলে এই সময়ের মধ্যেই আরও অনেক অগ্রগতি হতো। প্রয়োজনে আমরা সকল সাধারণ শিক্ষার্থী ভিসি স্যারের সাথে আবার আলোচনায় বসতে তৈরি আছি।
এ সময় তারা বলেন, প্রশাসন তৎপর না হলে আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ট্রিপল-ই বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ অক্টোবর থেকে আমরা প্রথমে ৮ দফা এবং পরবর্তী সময়ে সংশোধিত ১০ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে থাকি। এই দাবিগুলো মূলত আবরার হত্যার বিচার নিয়ে এবং যেসব ফ্যাক্টরের জন্য এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে ক্যাম্পাস থেকে সেসব ফ্যাক্টর অপসারণ করা নিয়ে। এ সময় তারা তাদের ১০ দফা দাবির আপডেট তথ্য জানান।
প্রসঙ্গত, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বুয়েটের দাফতরিক কর্মকাণ্ড চললেও একাডেমিক কর্মকাণ্ড স্থবির রয়েছে। মামলার অভিযোগপত্র দাখিল ও সেখানে অভিযুক্তদের বুয়েট থেকে স্থায়ী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বুয়েট ভিসি পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করল।