কথা সাহিত্যের জাদুকর হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দেশে দেশে যুগে যুগে গল্প উপন্যাস সিনেমা নিয়ে নানা বিতর্কের জের ধরে বিক্ষোভ হয়েছে, হামলা হয়েছে প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু গল্প উপন্যাস, নাটক সিনেমার কোন চরিত্র ভালোবেসে তাকে বাঁচিয়ে রাখার দাবী নিয়ে পথে নেমে এসেছে মানুষ, বিক্ষোভ করেছে, কান্নার মিছিল করেছে এমন ঘটনা বিরল। আর বাংলায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে  তেমনটাও দেখা যায় না।

শুধু মাত্র একটি চরিত্রই সেই বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে যার নাম ‘বাকের’। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের বাকের ভাই। নাটকে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা দর্শকরা মেনে নিতে পারেনি। তাই বাকের ভাইয়ের যেন ফাঁসি না হয় সে জন্য আন্দোলন করেছে মানুষ বিক্ষোভ করেছে। দেশব্যাপী হাজার হাজার তরুণরা পথে নেমে দাবী তুলেছিলো বাকের ভাইয়ের যেন ফাঁসি না হয়...। এমনই বিস্ময়কর চরিত্রের স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি করেছেন, বাকের ভাই, হিমু-মিসির আলীর মতো কালজয়ী চরিত্র।

 

আজ  ১৩ নভেম্বর বাংলা কথা সাহিত্যের নন্দিত লেখক ও জনপ্রিয় নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের ৭১ তম জন্মদিন। এই জাদুকরী লেখক যেখানেই হাত দিছেন সেখানেই ফলিয়েছেন সোনালী ফসল। তিনি একাধারে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক, পরিচালক, নাট্যকার এবং গীতিকার। দশকের পর দশক ধরে তিনি তার লেখা দিয়ে মোহ আচ্ছন্ন করে রেখেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার ডাক নাম ছিল কাজল৷ বাবার রাখা প্রথম নাম শামসুর রহমান হলেও পরে তার বাবা ছেলের নাম বদলে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ৷

হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও দোসরদের হাতে শহীদ হন। মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। তার দুই ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব। প্রত্যেককেই লেখালেখিতে পাওয়া গেছে।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ পাঠকমহলে এতটাই নন্দিত হয়েছিল যে এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি ৷ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মারণব্যাধি ক্যান্সারের কাছে হার মানার আগে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক- প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন তিনি৷

 

রসবোধ আর অলৌকিকতার মিশেলে বাংলা কথাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন হুমায়ূন আহমেদ৷ প্রথম দিকে গল্প ‍উপন্যাস লিখে জনপ্রিয়তা পেলেও পরে নাটক লিখে এবং পরিচালনায় করেও বিপলু জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বড় পর্দায়ও পেয়েছেন সফলতার ছোঁয়া। সিনেমা নির্মাণ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের চিত্রনাট্য ও পরিচালনার ছবিগুলোর মধ্যে ‘আগুনের পরশমণী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে৷ ‘খেলা’, ‘অচিন বৃক্ষ’, ‘খাদক’, ‘একি কাণ্ড’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘অন্যভূবন’ এর মত নাটকগুলোর আলোচিত ডায়লগ এখনও অনেকের মুখেই শোনা যায়৷

তার জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘অয়োময়’, ‘আজ রবিবার’, ‘নিমফুল’, ‘তারা তিনজন’ ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম', ‘সবুজ সাথী’, ‘উড়ে যায় বকপঙ্খী’, ‘এই মেঘ এই রৌদ্র’ উল্লেখ যোগ্য।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি৷ এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ (১৯৮৮) অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক৷