মানুষের কারণে ৫০ বছরে ৩০০ কোটি পাখি বিলুপ্ত

November 19, 2019, 12:37 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মানুষের কারণে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পাখিদের দল। সায়েন্স জার্নালে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, গত ৫০ বছরে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে ৩ বিলিয়ন মানে, ৩০০ কোটি পাখি! প্রতি ৩টি পাখির মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ১টি।

গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পাখি বিলুপ্তি ঘটেছে এশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হারিয়ে গেছে ৩০ শতাংশ পাখি।

 

আমেরিকার পাখি সংরক্ষণ সংস্থা ও করনেল ল্যাবের বিজ্ঞানী ড. কেন রসেনবার্গ ছিলেন এই গবেষণার প্রধান গবেষক। এছাড়াও ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী মার্শাল, ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী পিটার মারা প্রমুখ এই গবেষণা পরিচালনায় অংশ নেন।

উত্তর আমেরিকার পাখিদের নিয়ে করা জরিপে দেখা গেছে, মানুষের কর্মকাণ্ডই পাখিদের এই বিলুপ্তির জন্য দায়ী।

এই গবেষণার প্রধান গবেষক ড. কেন রসেনবার্গ বলেন, ‘এই প্রথম পাখির সংখ্যা নিয়ে এত ব্যাপক পর্যায়ে কোন জরিপ করা হলো।’

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছিলাম কিছু কিছু বিরল প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সচরাচর যে পাখিগুলো আমরা দেখতে পাই লোকালয়ে, যেমন- মিডোলার্ক, আমেরিকান চড়ুই – এরা মানুষের কাছাকাছি থাকতে অভ্যস্ত। মানুষের জীবন ধারণের নাগরিক পরিবেশের সঙ্গে এরা খাপ খাইয়ে নিতে পারে। সুতরাং এরা সহজে হারিয়ে যাবে না বলেই ভেবেছিলাম আমরা। কিন্তু ১৯৭০ সাল থেকে গত ৫০ বছরের পাখি জনগোষ্ঠী নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে আমরা দেখতে পেলাম, এই সাধারণ পাখিগুলোও আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে।’

 

উত্তর আমেরিকা আর কানাডায় পাখি গণনার জন্য, তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য তারা এক অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করেন- আবহাওয়ার রাডার। মেঘের গতিবিধি আর বাতাস ছাড়াও ভারী কোন বস্তুর যাতায়াতও রাডারে ধরা পড়ে। এখান থেকে মেঘ আর বাতাসের হিসেবটা বাদ দিয়ে পাখির গতিবিধির হিসেব রাখেন তারা। এই পরিসংখ্যান থেকে তারা দেখতে পেলেন ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাখির পরিমাণ কমে গেছে ১৪ শতাংশ।

গবেষণায় তারা দেখতে পেলেন, ৫২৯টি প্রজাতির পাখি জনগোষ্ঠী কমে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।

কারণ হিসেবে তিনি জানান, বন-জঙ্গল ধ্বংস করা এর অন্যতম কারণ। বনাঞ্চল না থাকার মানে হলো পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর এক অঞ্চলের পাখি  চাইলেও ভিন্ন জলবায়ুর কোন দেশে উড়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারে না। ফলে অবধারিতভাবেই মারা যাচ্ছে এই পাখিরা।

এছাড়াও উত্তর আমেরিকায় প্রতি বছর বিড়াল খেয়ে ফেলছে কয়েক কোটি পাখি। দ্রুতগতির গাড়ির উইন্ডশিল্ড ও বহুতল ভবনের সঙ্গে  ধাক্কা লেগেও প্রতি বছর অনেক পাখি মারা পড়ে।

 

একইভাবে বিশ্বের অন্য অংশগুলোতেও পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। এশিয়া থেকে কি করে এত পাখি হারিয়ে গেল তার কারণও উঠে এসেছে গবেষণায়। এক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ায় যা হচ্ছে, তা রীতিমতো হতবাক করে দেয়ার মতো।

এশিয়ায় পাখি বিলুপ্ত হবার অন্যতম কারণ পাখি ব্যবসা। গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ থেকে একটি বিশাল অঙ্কের পাখি হারিয়ে গেছে। কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখতে পেলেন, সেখানে গায়ক পাখিদের খাঁচায় পুরে রাখা হয় তাদের সুরেলা কণ্ঠের জন্য। জাভা দ্বীপে অরণ্যের চেয়ে এখন খাঁচায় বন্দী পাখির সংখ্যাই বেশি। এক সাক্ষাৎকারে ড. রসেনবার্গ বলেন, ‘২০১৭ সালে এই ব্যবসা নিয়ে আমরা এক জরিপ পরিচালনা করেছিলাম। সেই জরিপে দেখা গেছে, ১২টিরও বেশি প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধুমাত্র এই পাখি ব্যবসার কারণে।’