সিলেটের বলগাজান হাওর দখল

March 8, 2020, 12:26 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সিলেট রেলস্টেশনের পেছনের বিস্তীর্ণ জলাভূমি ‘বলগাজান হাওর’ প্রশাসনের সামনেই দখল করা হচ্ছে। এই হাওর ভরাট করে সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, সেখানে রাতের আঁধারে ট্রাকের পর ট্রাক মাটি এনে ভরাট করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

জানা গেছে, এলাকাটি সিটি করপোরেশনের মোমিনখলা ও ভার্থখলা মৌজায়। এর পূর্ব দিকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও উত্তরে সিলেট রেলস্টেশন ও দক্ষিণে সিলেট শহর বাইপাস সড়ক। সড়কটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয়রা জানায়, বাইপাস সড়কের গা ঘেঁষে কয়েক দিন ধরে পরিবেশ আইন না মেনে এ জলাভূমি ভরাট করছেন ব্যবসায়ী মোনায়েম খান বাবুল। তাঁর লোকজন রাতে ট্রাকে করে মাটি এনে ফেলছে। কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায়ও মাটি ভরাট করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মিত হলে পর্যটননগরীর সৌন্দর্য বিনষ্ট হবে। এ ছাড়া বস্তি ও দোকানঘর নির্মিত হলে অপরাধীদের অপরাধপ্রবণতা বাড়বে।

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী মোনায়েম খান বাবুল বলেন, ‘যে জমি ভরাট করছি তা আমার নিজের। এটা কোনো হাওর বা জলাশয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি জলাবদ্ধ থাকায় কোনো কাজে লাগছে না। তাই এখন কাজে লাগানোর জন্য ভরাট করছি। এখানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করব। ২০০৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আমি ছাড়পত্র নিয়েছি। দোকানঘর ও মার্কেট নির্মাণ করব এখানে।’ স্থাপনা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি তিনি এখনো নেননি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কেউ অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এ ব্যাপারে সিটি কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম ছাড় দেবে না।

জলাশয় ভরাট করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক ইসরাত জাহান পান্নার দপ্তরে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তাঁর দপ্তর থেকে বলা হয় তিনি ভীষণ ব্যস্ত। অধিদপ্তরের আরো একজন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।