আপত্তি নারী নির্মাতাদের 'নারী দিবস' নিয়ে

March 8, 2020, 4:52 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বেশ আয়োজন করে পালিত হচ্ছে নারী দিবস।

শোবিজ অঙ্গনও প্রস্তুত বিশেষ আয়োজনে। রেডিও-টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গানের কনসার্টও অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে।

কিন্তু যাদের নিয়ে এই দিবস, তারাই যেন অনেকটা নিশ্চুপ। অনেকেই নারীকে নিয়ে আলাদা দিবসের পক্ষে কথা বলেছেন, কেউ কেউ আবার বিপক্ষেও যুক্তি দেখিয়েছেন।

পাশাপাশি নারী দিবস নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দেশের কয়েকজন সফল নারী নির্মাতা।


'নারী দিবস' নিয়ে আপত্তি নারী নির্মাতাদেরমাতিয়া বানু শুকু, নাট্য নির্মাতা

আমি নারী দিবসকে মানি না। কেন নারীদের জন্য আলাদা করে একটি দিবস ঘোষণা করা হবে?

নারীদের দুর্বল ভেবে তাদের মূল্যায়িত করার কোনো দরকার নেই। আজ নারীরাও যে পারে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তার অসংখ্য উদাহরণ বাংলাদেশে আছে।

আমিও একজন নারী। প্রতিদিনই কাজ করছি সৃষ্টিশীল। কিন্তু কই আমাকে তো কেউ নারী ভেবে পথ আগলে দাঁড়ায়নি।

আসলে সৎভাবে বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলে পুরুষরাও পথ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সত্যি বলতে নারীরা মোটেও দুর্বল নয়।

এখন নারীরাও এগিয়েছে সামনের কাতারে।

 

চয়নিকা চৌধুরী, নাট্য নির্মাতা

দিবসটি নিয়ে আমার দ্বিমত আছে। শুধু একটি দিন নয়, ৩৬৫ দিনই আমরা আমাদের অধিকার চাই।

অতীতের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে হয়তো আমরা পিছিয়ে ছিলাম, কিন্তু বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। এখন নারীরা আর পিছিয়ে নেই।

অফিস, আদালত, সংস্কৃতি, সমাজ কোনো ক্ষেত্রে আজ নারীদের বিচরণ নেই? শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নারীরা যথেষ্ট উচ্চ জায়গায় অবস্থান করছে।

তাই বিশেষ দিবসের কথা চিন্তা না করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এগিয়ে যাওয়াটায় আসল।

 

নারগিস আক্তার, নির্মাতা

একজন নারী হিসেবে বেশ চড়াই-উতরাই পার করে আজ আমার এই জায়গায় আসতে হয়েছে।

অনেকে এমনো বলেছে, মেয়ে মানুষ দিয়ে সিনেমা হবে না, হবে 'ছিঃনেমা'। আমি কিন্তু তাতে একটুও ভড়কাইনি।

বরং বুকে সাহস জুগিয়ে এগিয়ে গেছি। আর তাই আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি।

আসলে নিজের উদাহরণটা দিলাম আমার মতো যারা এগিয়ে যেতে চান তাদের জন্য।

কেন নারী দিবস কিংবা নারী অধিকার নিয়ে আজ এত হাহাকার?

এর পেছনে সময় না দিয়ে বরং চলুন সবাই মিলে এগিয়ে যাই।

যে যাই বলে বলুক না, চলুন পাল্টে যাই! নারী দিবস কিংবা নারীর জন্য আলাদা ভাবনা মানি না, আমরাও মানুষ!

 

শাহনেওয়াজ কাকলী, নির্মাতা

নারীদের নিয়ে টানাহেঁচড়া আর কম হলো না! সত্যিই যেন তারা পুরুষের সমাজে বোঝা।

কিন্তু কেন এমন দৃষ্টি! নারী দিবসের মতো কেন একটি দিনের জন্ম হলো আধুনিক সমাজে তা একমাত্র পুরুষশাসিত সমাজই জানে। তবে আমার মনে হয় এটা ঠিক হয়নি।

আমাকে যখন প্রত্যেক বছর এই দিবসে পুরুষরা একটু অন্যরকম চোখে দেখে, বেশি বেশি যত্নআত্তি করার চেষ্টা করে তখনই নিজেকে খুব অবলা অবলা মনে হয়।

আবার মাঝেমধ্যে মনে হয় সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। প্রজন্ম তো বদলাচ্ছে। কিন্তু তাতেও যেন ভয় হয়।

কতদিন আর বইতে হবে নারী হয়ে বাঁচতে চাওয়ার বোঝা তা বোধহয় সমাজই বলতে পারবে। কারণ পুরুষ দিবস নেই! আছে শুধু নারী দিবস।