পুলিশে এগিয়েছে নারী

March 8, 2020, 4:52 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান নারী, স্পিকারও নারী। বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের সার্বিক উন্নতির মাপকাঠিতে অনেক বিষয়ই মূল্যায়ন করা হয়। শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম ও নারীর ক্ষমতায়নে অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পুলিশ বাহিনীতে ছিল না নারীর অংশগ্রহণ। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে আটজন নারী কনস্টেবল নিয়োগ দেন। তবে তারা কাজ করতেন সাদা পোশাকে। এরপর পুলিশের পোশাকে নারী সদস্যদের নিয়োগ শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। মাত্র ১১ জন নারী সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে যে পথচলা শুরু সেখানে আজ পুলিশে নারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ নারী পুলিশের সংখ্যা বেড়েছে।

পুলিশ সদরদফতর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীতে ক্রমেই বাড়ছে নারীর প্রাধান্য। যোগ্যতা ও সুযোগ অনুযায়ী বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পাচ্ছেন তারা। শুধু তা-ই নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও উজ্জ্বল ভূমিকায় নারী পুলিশ সদস্যরা। পুরুষ সদস্যদের মতোই তারা সমান তালে, সমান চ্যালেঞ্জে এগিয়ে যাচ্ছেন। চ্যালেঞ্জিং পেশা পুলিশে নারীরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। মিলেছে স্বীকৃতিও। পুলিশকে নারীবান্ধব হিসেবে ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিও।

বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত মোট নারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪০২, যা বাংলাদেশ পুলিশের মোট জনবলের ৭.১০ শতাংশ।পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও আগে ট্রাফিক সার্জেন্ট পদে নারী সদস্যদের দেখা যায়নি। ২০১৭ সালে ২৮ জন নারী সার্জেন্টের যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজপথে কাজ করতে শুরু করেন নারী পুলিশ সদস্যরা। বর্তমানে শুধু ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে কাজ করছেন ১৭৬ নারী পুলিশ সদস্য।নারী সদস্যরা পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করে চলছে। নারী পুলিশ নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও উইমেন অ্যান্ড ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কর্মরত নারীরা কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারগুলো নির্যাতিত নারী ও শিশুদের একান্ত নির্ভরতা-আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। নারী সার্জেন্টরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সাড়া জাগিয়েছেন।