বাংলাদেশ বিশ্বকাপে সেমিতে খেলবে ২০২৩

March 8, 2020, 5:03 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

'আমার মনে হয় ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে আমরা সেমিফাইনাল খেলব। খেলা হবে উপমহাদেশে। আর আমাদের নবীন ও তরুণ প্রজন্ম তখন একদম পরিণত হয়ে উঠবে। এখন যারা বয়সে তরুণ ও পুরোপুরি পরিণত হয়ে ওঠেনি, তারা সবাই ওই বিশ্বকাপের আগেই টগবগ করে ফুটতে শুরু করবে। তাই আমার বিশ্বাস, আগামী বিশ্বকাপে আমরা সেমিফাইনাল খেলব।'
২০২৩ বিশ্বকাপে সেমিতে খেলবে বাংলাদেশ!
অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম জয়ের দিন বিদায় নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে অধিনায়ক হিসেবে তৃপ্তি নিয়েই বিদায় জানিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেটি ছিল বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির শেষ ম্যাচ। তার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করার ম্যাচে বাংলাদেশ জেতে ১২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সতীর্থরা তাকে নিয়ে নানা আয়োজনে মেতে ওঠেন।

নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো ও জয় দিয়ে শেষ করা প্রসঙ্গে মাশরাফি বললেন, 'অনুভূতি মিশ্র। আমার ভালো-খারাপ উভয়ই লাগছে। একটা কাজ তো কমে গেল। অনেক বড় দায়িত্ব ছিল। অধিনায়ক হিসেবে খুব ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি। সেটাও অন্য রকম ভালো লাগার। সাধারণত এ সময়ে কারও ভালো লাগে, কারও খারাপ লাগে।'

দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলাপ করেছেন মাশরাফি। তিন বছর পর ভারতে বসবে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার ১৩তম আসরে টাইগারদের শেষ চারে দেখতে চান মাশরাফি, 'আমি খুব আশাবাদী। আমার মনে হয় ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে আমরা সেমিফাইনাল খেলব। খেলা হবে উপমহাদেশে। আর আমাদের নবীন ও তরুণ প্রজন্ম তখন একদম পরিণত হয়ে উঠবে। এখন যারা বয়সে তরুণ ও পুরোপুরি পরিণত হয়ে ওঠেনি, তারা সবাই ওই বিশ্বকাপের আগেই টগবগ করে ফুটতে শুরু করবে। তাই আমার বিশ্বাস, আগামী বিশ্বকাপে আমরা সেমিফাইনাল খেলব।'

বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিলেন দুই দফা। এই দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। ২০১৪ সালের শেষ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল যে সমীহ জাগানো পারফরম্যান্স করেছে, তা তার অধীনে- তার ছোঁয়ায় বদলে গিয়ে। তার নেতৃত্বগুণের কদর করা হয়ে থাকে দেশে ও দেশের বাইরে- সবখানে।

যে মাশরাফি নিজেকে গড়পড়তা দাবি করছেন, পরিসংখ্যান বলছে, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে সমীহ পাওয়ার মতো দল। বিশেষ করে ওয়ানডে সংস্করণে। দলকে ৮৮ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে ৫০টিতেই জিতিয়েছেন তিনি। তার অধীনে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘরের মাঠে সিরিজ হারিয়েছে টাইগাররা। কেবল পরিসংখ্যান আমলে নেওয়া নয়, দুঃসময়ের চোরাবালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশ দল তার শক্ত হাতে হাল ধরার কারণে আমূল বদলে গিয়েছিল।

মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রাণখোলা আড্ডা বাংলাদেশের ক্রিটাঙ্গনের চেনা ছবি। ক্রীড়া সাংবাদিকরা অনেকেও তার ভীষণ কাছের, পেশাদারিত্বের সীমা ছাড়িয়ে অনেকসময় তা আবেগের জায়গাতেও পৌঁছে যায়। কিন্তু অধিনায়কত্বের শেষ সময়ে এই গণমাধ্যমের কাছ থেকে অনেক তেতো প্রশ্ন শুনতে হয়েছে মাশরাফিকে। বরাবরই সব প্রশ্ন পরিণত মেজাজে সামলে এসেছেন। যদিও অধিনায়কত্বের শেষ সিরিজের আগে আবেগ সামলে রাখতে না পারা ভিন্ন মাশরাফিও দেখা মিলেছে। তবে বিদায়বেলায় দেশের সফলতম অধিনায়ক বললেন, কোন অর্থেই গণমাধ্যম প্রতিপক্ষ নয়। আড্ডা, খুনসুটি সবকিছু ভীষণ মিস করবেন তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে অধিনায়ক বলেন, পেশাদারিত্বের জায়গা ঠিক রেখেও চলে এই ঘনিষ্ঠতা, 'অন্যান্য দেশে দেখবেন ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিডিয়ার বিরাট ব্যবধান থাকে। আমাদের কিন্তু এটা তৈরি হয়নি। ভালো সম্পর্ক এক জিনিস। পেশা আরেক জিনিস। পেশাদারিত্বের জায়গায় দৃঢ় থেকে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।'

বাংলাদেশকে অনেক সাফল্য এনে দেওয়ার নায়কের মতে গণমাধ্যম প্রতিপক্ষ তো নয় বটেই, আজকের অনেকের উত্থানের পেছনেও ভূমিকা আছে গণমাধ্যমের, 'আমি তো মনে করি গণমাধ্যম এক জিনিস, যে সবকিছু তুলে ধরে। মিডিয়াকে প্রতিপক্ষ ভাবলে সেটা আমার দুর্বলতা, অন্য কেউ ভাবলে সেটা তার দুর্বলতা। মিডিয়া যেটা দেখছে তুলে ধরছে। আমি মনে করি না মিডিয়া প্রতিপক্ষ। আপনি খারাপ কাজ না করলে মিডিয়া প্রতিপক্ষ না, পারফর্ম ভালো করলে মিডিয়া আপনার প্রতিপক্ষ না। আপনি ঠিকমতো শৃঙ্খলা মেনে চললে মিডিয়া আপনার প্রতিপক্ষ না। মানুষরাই আমাদের তারকা বানায়। আজকে লিটন বা তামিম, সাকিব যারাই আমাদের উঠে আসার পেছনে মিডিয়ারও অনেক বড় ভূমিকা আছে।'

ডেভ হোয়াটমোর, জেমি সিডন্স, শেন জার্গেনসন- খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক কোচের সঙ্গে কাজ করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। অধিনায়ক হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে। এই সময়েই বাংলাদেশ সাফল্যের ভেলায় ভেসেছে বেশি। যদিও এই কোচের সঙ্গে মাশরাফিসহ সিনিয়র খেলোয়াড়দের তেতো সম্পর্ক আড়ালে থাকেনি। গুঞ্জন আছে, মাশরাফির টি২০ অবসরের পেছনেও হাথুরুসিংহের ইন্ধন আছে। তবে এতকিছুর পরও অধিনায়কত্বের বিদায় বেলায় তার পাওয়া সেরা কোচ হিসেবে এই লঙ্কানের নামই নিলেন মাশরাফি, 'হাথুরুসিংহেকে আমি অবশ্যই প্রথমে রাখব। যদিও অনেকে মনে করতে পারে যে হাথুরুসিংহের কারণে আমার টি২০ ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে। আসলে তা না। এছাড়া আমি জেমি সিডন্সের কথা সব সময় বলে আসছি। আজকে সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদের তৈরি হওয়ার পেছনে সিডন্সের অনেক অবদান। এটা তো ওরাও বারবার বলে।'