জুলাইয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চালু হচ্ছে প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউর

March 11, 2020, 3:42 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্দরে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউর (পিএপি) চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দরে পৌঁছার আগেই কার্গো বা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য শিপিং এজেন্টের মারফতে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যায়। ফলে পণ্যের ছাড়পত্রের প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। ছাড়পত্র ব্যয়ও কমে যায়। এতে দ্রব্যমূল্যের সাশ্রয় হয়। এসব দিক বিবেচনায় রেখে চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে চালু হচ্ছে প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ পদ্ধতি চালু হলে বন্দরে পণ্য এসে পৌঁছার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালানটির বিভিন্ন তথ্য পেয়ে যাবে। ফলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়াটি সময়সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করছেন এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত এনবিআরের কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে আমদানিকারককে আমদানি পণ্যের সাধারণ তথ্য (আইজিএম) জাহাজ আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। এরপর বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে হয়। এটি দাখিল সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে কাস্টমসের কার্যক্রম শুরু হয়।

এনবিআরের সূত্রটি বলছে, আইজিএম সাবমিট করে শিপিং এজেন্ট। আর, বিল অব এন্ট্রি দাখিল করতে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টরা সব মিলিয়ে ১০ দিনের মতো সময় নেন। এতে আমদানিকারকের কার্গোর পণ্যের ছাড়পত্র নিতে অনেক সময় লেগে যায় এবং খরচও অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া বাংলাদেশে পণ্যের ছাড়পত্র ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে এনবিআর কাস্টমস অডিট, মডার্নাইজেশন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের সদস্য খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় জাহাজ শেষ বন্দরটি ছেড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইজিএম দাখিল করবে। সেসব তথ্য আমাদের দেশে পাঁচ অথবা ১০ দিন পর পৌঁছাক, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু শেষ বন্দর ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে (শিপিং এজেন্টকে) আইজিএম সাবমিট করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা আগেই আইজিএম দেখে মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই কার্গো বাছাই করবেন। ঠিক করবেন কোন কোন কার্গো তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন আর কোনগুলো ছাড়পত্র পেয়ে যাবে।

ওই সূত্রটি জানিয়েছে, যেসব কার্গোয় সরকারি পণ্য আমদানি-রফতানি করা হয়, বেশির ভাগ সময় সেসব কার্গোর শুধু কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তবে কাজ এগিয়ে রাখার জন্য তারাও চাইলে প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউরের মাধ্যমে নিজেদের সংযুক্ত করতে পারবে। 

খন্দকার মুহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কিছু নিয়মকানুন আছে, সেগুলো পরিবর্তন করার কাজ চলছে। আর কিছু নিয়মকানুন আছে, সেগুলো আগের মতোই চলবে। অনেকগুলো পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সনদ এরপর বিশেষ কিছু বিভাগের সনদ লাগে। সেগুলো ওই প্রক্রিয়াতেই হবে। এতে আমাদের পণ্যের ছাড়পত্রের প্রক্রিয়াটা অনেক দ্রুত হবে। দেশের বাইরে আমাদের ভাবমূর্তি ভালো হবে।