প্রেমের জেরে এসিড নিক্ষেপ

April 1, 2018, 3:57 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার গুডস হিল এলাকার বাসিন্দা নমিতা ওরফে এনি (২৫)। তার প্রেমে পড়েন পটিয়া উপজেলার কেলিশহর এলাকার বাবুল চন্দ্র দে’র ছেলে তমাল চন্দ্র দে। তখন এনি’র আরেক প্রেমিক ছিলেন বর্তমান স্বামী সুমিত দাশ (৩২)। আর এই প্রেমের জের ধরে তমাল চন্দ্র দে’র মুখে এসিড নিক্ষেপে ঝলসে দেন সুমিত দাশ। সেদিন ছিল ২০১৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি। আর এই মামলায় একবছর পর এনি ও তার স্বামী সুমিত দাশকে ঢাকার ভাটারা থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।যাদের নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে এসে পৌঁছেন বলে জানান নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পুলিশ কমিশনার মো. শওকত আলী জানান, এসিড নিক্ষেপে তমাল চন্দ্র দে’কে ঝলসে দেয়ার পর সুমিত দাশ স্ত্রী এনিকে নিয়ে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় আত্মগোপন করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় অভিযান চালিয়ে ভাটারা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ২০১৭ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তমালের মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনা তদন্ত করেন। পরে এ মামলার তদন্ত নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ন্যস্ত করেন আদালত। তমালের মা বলেন, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে চট্টগ্রামের গুডস হিল এলাকায় আমার ভাসুরের মেয়ের বিয়েতে তমালের সঙ্গে এনি’র পরিচয় হয়। এরপর তিন-চার মাস তারা একসঙ্গে ঘোরাফেরা করেছে। কিন্তু তারও পাঁচ বছর আগে থেকে সুমিত দাশের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সমপর্ক ছিল তমাল সেটা জানতো না।  এ নিয়ে তমালের সঙ্গে পরে কথা কাটাকাটি হয় সুমিত দাশের। তমাল রাগের মাথায় তাকে থাপ্পড়ও মেরেছিল। সেই থাপ্পড়ের জবাব দিয়েছে এসিড নিক্ষেপ করে। তিনি বলেন, এসিডে তমালের দুটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে চিকিৎসা নিয়েও ভালো হয়নি তার চোখ। তমাল সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সেদিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনিকে দিয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে মুখে এসিড নিক্ষেপ করে। প্রথমে আমি দুজনকে দেখেছিলাম। তারা অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকিয়েছিল। এরপর আরেকজন যুবক গরম কিছু আমার মুখে নিক্ষেপ করে। এ সময় ঝাঁপসা চোখে দেখেছিলাম পরনে চেকশার্ট, গড়ন এনি’র স্বামী সুমিতের মতো। আমি অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে যখন পানি পানি চিৎকার করছিলাম তখন একজন যুবক বলছিল, এনি’র সঙ্গে প্রেম করার মজা দেখ।