জাল রুপি তৈরিতে দুই সহোদর!

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

হুমায়ুন কবির ও কাওছার সহোদর ভাই। তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তৈরি করে আসছেন ভারতীয় জাল রুপি। এজন্য গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট।

গত সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।

তিনি বলেন, 'এক যুগেরও বেশি সময় আগে হুমায়ুন প্রথমে জাল টাকা তৈরি শুরু করেন। পরে তিনি ভারতীয় জাল রুপি তৈরি ও বিপণন শুরু করেন। এজন্য আপন ভাই কাউছারসহ কয়েকজনকে নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেন।'

ডিবি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের 'হোতা' হুমায়ুন কবিরসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে কাওছার পলাতক। ডিবির উত্তর বিভাগ গত রোববার রাতে এ অভিযান চালায়।

গ্রেফতার অপর তিনজন হলেন—স্বপন দত্ত, সাইফুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান। তাদের কাছ থেকে ৩০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি, রুপি তৈরিতে ব্যবহূত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কার্টিজ, বিশেষ ধরনের কাগজ, স্কেল, গ্লাস, কাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, 'গ্রেফতার সাইদুর মূলত জাল রুপি তৈরির পেপার বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করতো। তার কাছ থেকে এ পেপারের প্রতি পিস ৩ থেকে ৪ টাকায় ক্রয় করতো হুমায়ুন। ভারতীয় এক লাখ জাল রুপি তারা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায় ভারতীয় সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করত।'

ডিবির-উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান জানান, হুমায়ুনের গুরু দুরুদুজ্জামান। এ ব্যক্তি জাল মুদ্রা তৈরি জগতের গুরু হিসেবে চিহ্নিত। কয়েক মাস আগে দুরুদুজ্জামান ডিবির হাতে গ্রেফতারের পর হুমায়ুন একাই জাল রুপির সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিল। এর আগে হুমায়ুনকে চারবার গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হুমায়ুন এক সময় পুলিশে চাকরি করতেন। ২০০৬ সালে অনৈতিকতার কারণে কনস্টেবল পদ থেকে তার চাকরি চলে যায়। এরপর থেকেই মূলত জাল মুদ্রার কারবার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।