মাথা ছিঁড়ে নিয়েছে হিংস্র প্রাণী, তবুও ৭ দিন বেঁচে আছে মোরগ!

April 4, 2018, 4:43 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

থাইল্যান্ডের রচাবুরি প্রদেশের মিয়াউয়াং রাচাবুরি জেলার অদ্ভুত এ ঘটনাটি এখন সামাজিক মাধ্যমে তোলাপাড় তৈরি করেছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর মতে, মাথাবিচ্ছিন্ন একটি মোরগ ৭ দিন ধরে বেঁচে আছে। 

ওই এলাকার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ভিক্ষুরা মোরগটির দেখভাল করছেন- এমন ভিডিও ক্লিপ এখন ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যায়, মোরগটিকে সিরিঞ্জ দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে। লাখ পাঁচেকবার দেখা হয়ে গেছে এই ভিডিও এ পর্যন্ত। 

থাই মিডিয়ার খবরে জানা গেছে, মোরগটিকে যেখানে পাওয়া যায়, পরে সেই স্থানের সবচেয়ে কাছের প্যাগোডার ভিক্ষুরা প্রাণীটিকে নিজেদের আশ্রয়ে নেন। এখন দেখভাল তারাই করছেন।  

নোপ্পোঙ্গ থিট্টানো নামের এক ইউজার সামাজিক মাধ্যমে প্রথমে মোরগটির বিষয়ে খবর জানান। এরপর স্থানীয় পশুচিকিৎসক বোরাকরন শ্রীরোজ লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা তুলে মোরগটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সুপাকারি অরুণ থাংগ নামের অপর চিকিৎসক প্রথম মোরগটিকে খাবার খাওয়ান সিরিঞ্জ দিয়ে। তিনি একই কায়দায় অ্যান্টিবায়োটিকও দেন মোরগটিকে। মুণ্ডুহীন মোরগের সেবক এই নারী চিকিৎসক বলেন, এর আয়ু বাকি ছিল। সে বাঁচতে চেয়েছে আর আমরা তাকে খাওয়া-দাওয়া দিয়েছি আর দেখভাল করেছি। 

তাদের মতে, এই মোরগটি হচ্ছে একজন সাচ্চা যোদ্ধা। প্রাণীটির অমন হাল কী করে হলো তা নিশ্চিত করা না গলেওে স্থানীয়রা মনে করছেন অন্য কোনো পাখি বা প্রাণীর প্রাণঘাতী হামলা থেকে কোনোমতে বেঁচে যায় সে। ভিডিওতে দেখা যায়, মোরগটির মাথার একটি অংশ ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হতে পারে এর মাথা তথা মস্তিষ্কের একটি অংশ শরীরের সঙ্গে রয়ে গেছে অর্থাৎ গলার ওপরে থাকা অংশের সঙ্গে আছে।

এর আগে মাথাহীন মোরগ বেঁচেছিল দেড় বছর! 
সাধারণত রক্তাক্ত আর নির্মম-ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় বলা হয়- জবাই করা মোরগের মতো তড়পাতে তড়পাতে মারা গেল লোকটা। কিংবা বসের সামনে অসহায় অবস্থার বর্ণনায় সাহিত্যিক ভাষায় কেউ কেউ বলেন- আমার অবস্থা তো তখন ভয়াবহ! বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা তখন গলাকাটা মোরগের মতো লাফাচ্ছে... তবে ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ফ্রুইটা শহরের অদূরে মাথা কেটে ফেলার পরও মারা যায়নি একটি মোরগ। মাথা কাটার পর ডানা ঝাপটে উথালপাথাল তো করেইনি, রীতমতো ‘স্মার্ট’ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল। এখানেই শেষ নয়- ওই অবস্থায় প্রাণীটি বেঁচে ছিল প্রায় দেড় বছর। এই অদ্ভুত মোরগটি পরে 'মিরাকল মাইক' হিসিবে পরিচিতি পায় বিশ্বজুড়ে।

১৯৪৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ফ্রুইটা শহরের অদূরে মোরগের খামারি লয়েড ওলসেন ও স্ত্রী ক্লারা প্রায় অর্ধশত মোরগ জবাই করেন। কিন্তু এদের মধ্যে একটি মোরগ অন্যগুলোর মতো জবাইয়ের কিছক্ষণের মধ্যেই মরে গেল না। শুরু করল অদ্ভুত আচরণ। মুণ্ডু কেটে আলাদা করার পরও এটি দাঁড়িয়ে রইল। চলাফেরা করতে লাগল স্বাভাবিকভাবে। শুধু হাঁটাচলা নয়- মোরগটি দৌড়াতেও শুরু করল। 

পরে 'মিরাকল মাইক'কে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে নিয়ে যেতে শুরু করেন মাংস ব্যবসায়ী ওলসেন। প্রথমে সল্ট লেক সিটি ও ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। তাজ্জব গবেষকরা শুরু করেন নানা পরীক্ষা। মাথা কাটা মোরগটির বেঁচে থাকার রহস্য ভেদে আরো বেশ কিছু মোরগ জবাই করা হয় এখানে- তবে কেউ কেউ এটাকে গুজবও বলেন। 

যাহোক, নিউ ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ প্রসঙ্গে জানান, যখন কোনো মোরগ জবাই করা হয় তখন কিছু সময়ের জন্য স্পাইনাল কর্ড সার্কিটে কিছু অক্সিজেন জমা থাকতে পারে। মস্তিষ্ক থেকে কোনোরূপ ইনপুট ছাড়াও এ ধরনের সার্কিট কাজ করতে পারে। তাই মুণ্ডু কাটলেও মস্তিষ্কের নিউরন সক্রিয় হয়ে যায় এবং পাখির পা চলতে শুরু করে। তবে মাইকের ঘটনাটি বেশ দুর্লভ। স্পাইনাল কর্ড সার্কিটে অক্সিজেন থাকার সূত্রে মোরগ বা মোরগ জবাই করার পরও কিছুক্ষণ পর্যন্ত ছুটতে পারে, এবং এটা সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু তাই বলে দেড় বছর! 

মাইককেও থাইল্যান্ডের এই মোরগটির মতো কায়দায়-ই খাওয়ানো হতো। ওলসেন জানয়েছিলেন, ঠোঁট, কান, চোখসহ পুরো মুণ্ডুহীন মোরগটিকে খাদ্যনালি দিয়ে খাবার দেওয়া হতো আর সিরিঞ্জ দিয়ে মাঝেমধ্যে গলা পরিষ্কার করে দিতেন। 

গলাকাটা মোরগটির বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে গবেষক টম স্মুলডার্স জানান, যদি কোনো মানুষের মাথা কাটা পড়ে তবে মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়ে কিন্তু মোরগের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এই স্থলচর পাখিটির মাথার সামনের দিকে ব্রেনের পরিমাণ থাকে খুবই অল্প। এর চোখ ও মাথার খুলির পেছনে বেশি পরিমাণে মগজ থাকে। ওলসেনের মতে, ছোরার কোপে মাইকের ঝুঁটি, মুখ, চোখ আলাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত রক্ষা পায়। এ কারণেই তার শরীর, হৃৎপিণ্ড শ্বাস-প্রশ্বাস, ক্ষুধা ও অন্যান্য জৈবিক বিষয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চালু ছিল। পরে অনেকেই মাইকের মতো মাথাহীন মোরগ তৈরির চেষ্টা করেন। যদিও সফল হওয়ার খবর জানা যায়নি।

কিন্তু থাইল্যান্ডে যে মোরগটি নিয়ে এত তোলপাড়, তা সর্বশেষ খবর অনুযায়ী কোনো হিংস্র পশু বা পাখির আক্রমণের শিকার বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ, ধারালো ছোরা দিয়ে যেভাবে মোরগ জবাই করা হয় বা মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়- একে দেখে সে রকম মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে, কোনো অন্য কোনো প্রাণী একে শিকার বানাতে চেয়েছিল। 'ভাগ্যগুণে' মাথার কিছু অংশ হারিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।