নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন উদযাপন করলো বাংলা নববর্ষ। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা সুর মেলান বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনকে।

 

এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে সপরিবারে যোগ দেন জাতিসংঘ ডেলিগেশন উইমেন’স ক্লাব-এর সদস্যসহ বিভিন্ন স্থায়ী মিশনের কূটনীতিকরা। জাতিসংঘে অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত জিলিয়ান বার্ড, ত্রিনিনাদ ও টোবাগো’র স্থায়ী প্রতিনিধি পেনিলোপে বেকলেস্সহ বেশ কয়েকটি দেশের নারী রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাইচ্যাকের স্ত্রী জার্মিলা ল্যাজাকোভা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরাও উৎসবে যোগ দেন। নারীদেরকে প্রাধান্য দিয়ে আয়োজিত এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি প্রবাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে একটি ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।

 

বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনকে আবহমান বাঙালির সংস্কৃতির অসংখ্য উপাদান যেমন ঢাক-ঢোল-একতারা, পালতোলা নৌকা, ডালা-কুলা, তালপাতার পাখা, নকশী কাঁথা, মাটির পুতুল, মাটির থালা-বাসুন, কাঁচের চুড়ি, মাছ ধরার পোলো, পালকি, পাটের সুতার সিকা, আলপনা ও নানা-বর্ণের ব্যানার-ফ্যাস্টুন-বেলুন ও শাড়ী দিয়ে সাজানো সাজানো হয়। বেলা তিনটায় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন-এর সহধর্মীনি ফাহমিদা জাবিন।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মিশনের কূটনীতিকদের স্ত্রী ও কন্যারা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি। এছাড়া ‘তাকধুম তাকধুম বাজে বাংলাদেশের ঢোল’সহ বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন মিশন পরিবারের শিশুরা। স্থানীয় ‘সৃষ্টি একাডেমি অব পাফর্মিং আর্টস’-এর নারী সদস্যরা বিভিন্ন দেশীয় লোকসঙ্গীতের সঙ্গে দলীয় ও একক নৃত্য পরিবেশন করেন, যা ছিল অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ। সৃষ্টি একাডেমির পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী একটি নৃত্যও পরিবেশিত হয় অনুষ্ঠানে।

 

বিচিত্র রঙ-এর সমাহারে ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি হয় পুরো আয়োজন জুড়ে। বাঙালির সংস্কৃতির এই উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করে বিদেশিদের পরে আসা বৈচিত্র্যময় পোশাক। উপস্থিত বাঙালিরাও রঙ-বেরঙের দেশিয় পোশাক পরে উৎসবে যোগ দেন। খাবারের আয়োজনে ছিল আটপৌঢ়ে বাঙালি আমেজ। ঘরে তৈরি পিঠা-পুলি-পায়েস, ক্ষীর, ভাত-মাছ, পোলাও, কাবাব, চটপটি, মুড়ি-মুড়কি-মুয়াসহ নানা ধরনের মসলাযুক্ত বাঙালি খাবারের পদ। অনুষ্ঠানে র‌্যাফেল ড্র এর আয়োজন করা হয়।