সুন্দরবন এখন স্ক্র্যাপ জাহাজের ভাগাড়, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

April 21, 2018, 2:22 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন এখন স্ক্র্যাপ (মেয়াদ উত্তীর্ণ) জাহাজের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। একের পর এক ডুবছে পণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজ। সুন্দরবনে নদীতে পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজডুবির ঘটনা আগে থেকে ঘটলেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এসে জাহাজডুবির ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যায়। সাড়ে ৩ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষিত এই বনের নদীতে তলা ফেটে ডুবেছে পণ্যবোঝাই ১০টি লাইটার জাহাজ। সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্ধারকারী জলযান না থাকায় দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না ডুবে যাওয়া এসব জাহাজ ও পণ্য। ডুবে যাওয়া এসব জাহাজে থাকা ফার্নেস অয়েল, সার, কয়লা, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিঙ্কার, স্লাগ, জিপসান ছড়িয়ে পড়ছে।এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ম্যানগ্রোভ এই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। ডুবে যাওয়া অনেক লাইটার জাহাজ উত্তোলন না করায় দ্রুত পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে সুন্দরবনের নদ-নদী। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, ১৯৯৪ সালের আগস্টে সুন্দরবনের কাছে পশুর চ্যানেলের বানিশান্তা এলাকায় একটি তেলবাহী জাহাজ ডুবে গেলে প্রথম বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে সুন্দরবন। ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তেল। এরপর ১৯৮৮ সালের ১লা জুলাই মোংলা বন্দরের কাছে একটি তেলবাহী লাইটার কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনায় পশুর চ্যানেলে তেল ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবন আবারো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। 

একই বছরের ১০ই আগস্ট সুন্দরবনের মাজহার পয়েন্টে অপর একটি তেলবাহী লাইটার কার্গো দুর্ঘটনায় পড়ে উচ্চমাত্রার সালফারযুক্ত তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনে। সুন্দরবনে নদীতে পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজডুবির ঘটনা আগে থেকে ঘটলেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এসে জাহাজডুবির ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যায়। ওই বছরের ১২ই সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৬৩০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়ে তলা পেটে ডুবে যায় লাইটার জাহাজ ‘এমভি হাজেরা-২’। একই বছরের ৩০শে সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৬০০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়ে তলা পেটে ডুবে যায় লাইটার জাহাজ ‘এমভি য়ন শ্রী-৩’। একই বছরের ২৪শে নভেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের হরিণটানা এলাকায় তলা ফেটে ডুবে যায় তিনতলা বিশিষ্ট যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি শাহীদূত’। একই বছরের ৯ই ডিসেম্বর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শ্যালা নদীতে তলা ফেটে সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডুবে যায় ‘ওটি সাউদার্ন স্টার-৭’ নামের একটি অয়েল ট্যাংকার। সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নদ-নদী ও বনের প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে সুন্দরবন। এ ঘটনা দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে ম্যানগ্রোভ এই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছুটে আসতে হয় খোদ জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলদের। এরপর ২০১৫ সালের ৫ই মে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের মরাভোলা নদীতে তলা পেটে ডুবে যায় ‘এমভি জাবালে নূর’ নামের সার বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ। সুন্দরবনের নদীর পানিতে গলে ছড়িয়ে যায় ৫০০ টন পটাশ সার। একই বছরের ১১ই সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীতে তলা ফেটে ডুবতে ডুবতে অন্য একটি লাইটার জাহাজের সহয়তায় মোংলায় পৌঁছাতে সক্ষম হয় আরো একটি কয়লা বোঝাই লাইটার জাহাজ।