ব্রিজ ধসে মালবাহী ট্রাক পানিতে, যোগাযোগ বিচ্ছিন ৭টি ইউনিয়নের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শরীয়তপুর-বিনোদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে কীর্তিনাশা নদীর ওপর অবস্থিত রাজগঞ্জ বড়ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে মাল বোঝাই ট্রাক নদীতে পড়েছে গেছে। ফলে মাদারীপুরের শিবচরসহ শরীয়তপুরের ৭টি ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। ইতোপূর্বেও ওই সেতুটি তিনবার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছিল।
 
উপজেলার রাজগঞ্জ গুড়িপাড়া এলাকার আতাউর রহমান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-বিনোদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে কীর্তিনাশা নদীর ওপর রাজগঞ্জ বড়ব্রিজটি ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৫১ টাকা ব্যয়ে ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে কাজ শুরু করে ২০০৮ সালে কাজ শেষ করা হয়। গত ৬ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে হঠাৎ করে ব্রিজের গোড়া থেকে মাটি ও বালু ধসে গিয়ে বিরাট এক ভাঙ্গনে সৃষ্টি হয়। সেই সময় স্থানীয়রা ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষে সহয়াতায় সাময়িকভাবে ব্রিজের গোড়ায় বাঁশ ও গাছের গুড়ি ও কালভার্ট দিয়ে জনসাধারণকে চলাচল করতে দেয়া হয়। এরপর গত বছরের অক্টোবর মাসে একই স্থানে আবার ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটে। তখন বেইলি স্থাপন করে সেতুটি কোন রকম চলাচলে উপযুগী করা হয়। শুক্রবার ভোর রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রান্সফর্মা বহনকারী একটি ট্রাক (চট্ট-মেট্রো-শ-১১-১২২৭) শরীয়তপুর সদর উপজেলার গয়াতলা আসার পথে রাজগঞ্জ বড়ব্রিজের ওপর মাল বোঝাই ট্রাক যাওয়া সময় বিকট শব্দে কালভার্ট ব্রিজটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে করে সম্পূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

এই ঘটনায় মাদারীপুরের শিবচরসহ শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর, বিনোদপুর, মাহমুদপুর, তুলাসারসহ ৬ ইউনিয়নের প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মসজিদ মাদ্রসায় ছাত্রছাত্রীসহ কয়েক লাখ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ফলে নদীপথে ট্রলার যোগে লোকজন পারাপার হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবী জরুরী ভিত্তিতে ব্রিজটি মেরামত কাজ করে যানবাহন সহ জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আংগারিয়া বন্ধান হয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর এলজিইডি কর্তৃপক্ষ শেষ খবর জানা পর্যন্ত ঘটনাস্থালে আসেনি।

স্থানীয় মো. জসিম মাদবর বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। এরপর রাজগঞ্জ বড় ব্রিজটির পশ্চিম পাড়ে কালভার্ট ওপরে মাল বোঝাই ট্রাকসহ কালভার্টটি ভেঙে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

তুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ফকির বলেন, সেতুটি মাত্র ৬ মাস ব্যবধানে ভাঙ্গনের শিকার হলো। এর আগেও দু’বার ভেঙেছে। আমরা বার বার প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে যেন সংযোগ সড়কটি মেরামত করা হয়।কিন্তু তারা তার কোন উদ্যোগ নেয়নি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, এ ব্রিজটি মেরামতের পরে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে ৫ মেঃ টন এর বেশী কোন মালামাল নিয়ে ব্রিজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবেনা। গত রাতে পল্লী বিদ্যুৎ এর ৪০ মেঃ টন ওজনের ট্রানফর্মার নিয়ে ট্রাক আসার পর ব্রিজটি ধসে পড়ে। আগামীকাল শনিবার ক্রেনদিয়ে ট্রাকটি সরানোর পরে মেরামতের কাজ করব। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মামলা করব।