মাদকসেবী শিশু-কিশোর ৪ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ঢাকার পথে-ফুটপাথে, পরিত্যক্ত স্থানে নেশা করে শিশু-কিশোররা। মূলত ড্যান্ডি নেশা। এটা পুরনো কথা। সাম্প্রতিক অবস্থা আরো ভয়াবহ। যোগ হয়েছে মরণ নেশা ইয়াবা। চার লাখেরও বেশি শিশু মাদকাসক্ত।শিশুদের বিপথগামী করতে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী চক্র। টার্গেট শিশুদের মাদকাসক্ত করে এই মাদক বাণিজ্যে জড়ানো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। প্রথমে মাদকাসক্ত করা হচ্ছে কৌশলে। তারপর মাদকাসক্ত শিশু-কিশোররা ছাড়ছে পরিবার। মা-বাবা ছেড়ে তারা পা দিচ্ছে অন্ধকার জগতে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মা-বাবাহীন এতিম-পথশিশুদের জড়ানো হচ্ছে বাণিজ্যে। মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা থেকে শিশু উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হচ্ছে শিশু মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে মাদকাসক্ত চার লাখেরও বেশি শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ পথশিশু। তারা মূলত ড্যান্ডির নেশা করে। এছাড়াও সম্প্রতি ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে শিশু-কিশোরদের একটা অংশ।
যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, তেজগাঁও, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এলাকায় শিশু-কিশোরদের প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী চক্র তাদের সুবিধার্থে এই শিশুদের মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করছে। মিরপুর-১১ এর এডিসি ক্যাম্প এলাকায় সিটি করপোরেশনের একটি নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনে বেশিরভাগ সময় কয়েক শিশুকে অবস্থান করতে দেখা যায়। দিনভর তারা ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে থাকে। এরমধ্যেই বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিরা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। মানিব্যাগ বের করে টাকা দেন। শিশুরা এগিয়ে দেয় পলিথিনের ভাঁজ করা ব্যাগ। তারপর দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে মাদক ক্রেতারা। ওই শিশুদের একজনের নাম শান্ত। ১৫ বছর বয়সের ওই কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই এলাকায় থাকে। তাকে আশ্রয় দিয়েছে বাবর নামে এক ব্যক্তি। বাবর তাকে তিনবেলা খেতে দেয়, থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। লেখাপড়া করে না শান্ত। তার ভাষায়, লেখাপড়া করি না। কোনো কাজও করি না। খাই আর ঘুমাই।
তার মা-বাবা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। জানা গেছে, মিরপুর-১২ এলাকার বাসিন্দা এক দরিদ্র দম্পতির সন্তান শান্ত। আশেপাশের ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে গিয়েই ড্যান্ডিতে আসক্ত হয়। তার প্রতি নজর পড়ে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, একাধিক মামলার আসামি ফারদিন বাবরের। বাবর তাকে ফ্রি ইয়াবা সেবন করতে দেয়। এভাবেই আসক্ত করে তাকে। ১০টি ইয়াবা বিক্রি করে একটি ফ্রি এমন চুক্তিতে তাকে দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করানোও শুরু করে বাবর। শান্তর মতোই ১৬ বছর বয়সী রুবেলসহ অর্ধশত শিশুকে দিয়ে ওই এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে চক্র। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও বাবর থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
মাদক বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গত ৩১শে মার্চ রাতে নির্মাণাধীন ছয়তলা মার্কেটে হত্যা করা হয় রুবেল মিয়া নামে আরেক কিশোরকে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে পরিত্যক্ত এই ছয়তলা ভবনের ভেতরে চারটি খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে, নওশাদ ওরফে কানা নওশা, সোহেল, শিমুল ও সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে রুবেল মিয়া।