কচুয়ায় জলাবদ্ধতায় ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

কচুয়া পৌরসভার কোয়া-চাঁদপুর গ্রামের আশপাশের সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। ওই প্রভাবশালীরা আইনের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো খাল ভরাট করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ ও খালের মুখে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এতে জলাবদ্ধায় ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এদিকে এর প্রতিকার চেয়ে কোয়া-চাঁদপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কৃষকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭৭নং কোয়া-চাঁদপুর ও ৮৫নং কাপিলাবাড়ি মৌজায় প্রায় এক হাজার একর জমিতে চলতি মৌসুমে কৃষকরা ইরি-বোরো ধান চাষ করে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির এবং এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীর ইচ্ছামতো খাল দখলের কারণে জমিতে হাঁটু পানি জমে আছে।

কোয়া-চাঁদপুর ও কাপিলাবাড়ী গ্রামের কৃষক ইয়াছিন, মামুন, হাবিব, শরীফ, ফজলু মিয়া, আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন জানান, কোয়া-চাঁদপুর বাজার হতে হাসখালি-কাপিলাবাড়ি শাখা খালটি হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া খালের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু খালটি অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করায় এখন আর আগের মতো কোয়া-চাঁদপুর, কাপিলাবাড়ী ও ডুমুরিয়া গ্রাম এলাকার বিস্তৃত ফসলি মাঠের পানি ডাকাতিয়া খালে নামতে পারছে না। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা আফরোজ, কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভরাট খালগুলো সরকারি কিনা তা যাচাই করার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বলেছেন।

সহকারী কমিশনার রুমন দে জানান, বর্ণিত খালের রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করার জন্য উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি খাল প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তহসিলদার দেলোয়ার হোসেন জানান, বর্ণিত প্রায় দুই কি.মি খালের কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন। তবে অধিকাংশই সরকারি।