সাংবাদিকদের বড় ভয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সমালোচনা করা হয়েছে।

 

গণমাধ্যম স্বাধীনতায় সোচ্চার ওই সংগঠন বলছে, ইসলামী জঙ্গির হাতে খুন হওয়া বা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বলি হয়ে কারাভোগের ভয়ে দেশের সাংবাদিক-ব্লগাররা স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের মধ্যে রয়েছেন।

আরএসএফের তালিকায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান গতবারের মতোই ১৪৬তম স্থানে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৪। তালিকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দিক দিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নরওয়ে।

তালিকায় সবার নিচে জায়গা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার। ১৮০টি দেশের গণমাধ্যম পর্যালোচনা করে বুধবার এ সূচক প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি।

প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করে আরএসএফ। সূচকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে পাঁচটি পর্যায়ে ভাগ করেছে আরএসএফ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ব্ল্যাকলিস্টেড বা কালো তালিকাভুক্ত হয়। এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে রাখা হয় লাল তালিকায়।

কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলো চিহ্নিত হয় হলুদ রং দিয়ে। আর যেসব দেশ সংবাদমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ভোগ করে, সেই দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত হয় সাদা তালিকায়। এবারের তালিকায়ও অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে লাল তালিকায়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ একটি সেক্যুলার দেশ হলেও সেখানে সংবিধান ও ইসলামের সমালোচনা ভালো চোখে দেখা হয় না। দেশের সংস্কৃতিকে বহুত্ববাদী আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশে মহামারীর মতো সাংবাদিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে।

এসব ঘটনায় দায়ীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্র ও স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের সমালোচনা করে বলা হয়, ২০১৭ সালে ২৫ সাংবাদিকসহ কয়েকশ’ ব্লগার ওই আইনে মামলার কবলে পড়েছেন।

চলতি বছরের প্রথমদিকে নতুন ডিজিটাল তথ্য নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করে শেখ হাসিনা সরকার।

সূচকে সবার উপরে রয়েছে নরওয়ে। পরের অবস্থানে রয়েছে সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এবারের সূচকে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৪৮ দশমিক ৬২, যা গত বছর ছিল ৪৮ দশমিক ৩৬। ১৮০টি দেশের মধ্যে সূচকে সবচেয়ে নিচের দিকের দেশ উত্তর কোরিয়া।

এর ঠিক উপরেই রয়েছে ইরিত্রিয়া, তুর্কমেনিস্তান, সিরিয়া ও চীন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ১০৬, ভারত ১৩৮, থাইল্যান্ড ১৪০, ফিলিপাইন ১৩৩, শ্রীলংকা ১৩১, মিয়ানমার ১৩৭, আফগানিস্তান ১১৮, মালয়েশিয়া ১৪৫ ও পাকিস্তান ১৩৯তম অবস্থানে রয়েছে।