নিক্সন চৌধুরীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ চরভদ্রাসন থানা আওয়ামী লীগ সভাপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহর পক্ষ ত্যাগ করে ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে চরভদ্রাসনের থানা আওয়ামী লীগের ৪৫ বছরের সভাপতি মো. আজিজুল হক মাস্টার। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগকে নতুন করে সুসংগঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
 
গতকাল শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে গাজিরটেক ইউনিয়নে তার নিজ বাড়িতে এক আলোচনা সভায় হাজারো লোকের উপস্থিতিতে নেতা কর্মীরা কাজী জাফর উল্যাহর নানা কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ওইদিন রাতে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন) ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই সভায় যোগ দেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক মাস্টারের গলায় ফুলের মালা পড়িয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
 
সভায় এমপি নিক্সন চৌধুরী বলেন, 'চরভদ্রাসন থানা আওয়ামী লীগের ৪৫ বছরের সভাপতি আজিজুল হক মাস্টার কাজী জাফর উল্যাহর নানা কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যাপক সংখ্যক নেতা কর্মীদের নিয়ে আমার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, কাজী জাফরউল্যাহ সংগঠনের নিয়ম কানুন না মেনে দল পরিচালনা করায় শুধু চরভদ্রাসনের নেতা কর্মীরাই নয় সংগঠনের সাথে জড়িত ভাঙা ও সদরপুরের প্রায় নব্বই ভাগ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা আমার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।;
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাঙা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন, চরভদ্রাসন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. কাউসার হোসেন,চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আহসানুল হক মামুন, মো. আনোয়ার আলী মোল্যা, যুবলীগ সভাপতি মো. মোরাদ হোসেন সহ তিন উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী।
 
কাজী জাফর উল্যাহর পক্ষ ত্যাগ করার বিষয়ে আজিজুল হক মাস্টার বলেন, 'আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, কয়েক যুগ ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি।মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা শেখ সৈয়দ হোসেন শহীদ হন, আমি আমার বাবার লাশও খুঁজে পাইনি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আওয়ামী লীগের দুর্দিনে অনেক নেতার সাথে রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি, কাজী জাফর উল্যাহর সাথে রাজনীতি করতে এসে কোন মূল্যায়ন পাইনি, আমি সহ দলের অনেক নেতা কর্মীদের তিনি অবহেলার চোখে দেখেন। তিনি তৃনমূলে রাজনীতি করার নেতা না, সে সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে পারে না। তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের দূরে সরিয়ে রেখে চাটুকার দুর্নীতিবাজ একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে কাছে টেনে নেওয়ায় (চরভদ্রাসন,সদরপুর ও ভাঙা) উপজেলা আওয়ামী লীগে চরম ভাঙন দেখা দিয়েছে।'
 
আজিজুল হক বলেন, 'দিনে দিনে নেতা কর্মীরা তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমি সহ দলের অনেকেই সাংগঠনিক নানা সমস্যা তার নিকট বার বার তুলে ধরেও কোন সমাধান না পাওয়া আমি হতাশ! তাই আমি জীবিত থাকতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সৈনিকদের নিয়ে তিন উপজেলার আওয়ামী লীগকে নতুন করে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর রক্ত, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য, গণ মানুষের নেতা, স্বতন্ত্র এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (নিক্সন) সাথে রাজনীতিতে যুক্ত হলাম।' তিনি আরও বলেন, 'আমি নেতা কর্মীদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর নিকট এই আসনে কাজী জাফর উল্যাহর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলব 'আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে স্বতন্ত্র এমপির বিপরীতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।'