শ্রমিক স্বাধীনতা দিবস

May 1, 2018, 2:42 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পহেলা মে,যাবতীয় অন্যায়,অতাচার,জুলুম,নিপীড়ন থেকে শ্রমিকের মুক্তির দিন,তাদের আনন্দের দিন।বিশ্ব জুড়ে শ্রমিক শ্রেনী খুব ঘটা করেই দিবসটি পালন করে থাকে।কারন এই একটা দিন যে রাজার নয় প্রজার,মালিকের নয় শ্রমিকের,প্রভুর নয় দাসের।বিশ্বের প্রায় ৮০ টি দেশে এই দিনটি সরকারী ছুটির দিন।দিবসটি নানা আয়োজনে পালিত হলেও এর পিছনে আছে রক্তাক্ত ইতিহাস ১৮৮৬ সালের ঘটনা, আমেরিকার শিকাগো শহরের কয়লা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য আতœত্যাগ, যা আজ মে দিবস নামে প্রচলিত।
তৎকালীন সময়ে শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন-যাপন করতো,তাদের না ছিলো কোনো সন্মান,না ছিলো কোনো অধিকার।অমানবিক পরিশ্রম করা লাগতো তাদের, যা এক কথায় দাসবৃত্তির পর্যায়ে পড়তো।
উনিশ শতকের প্রথম দিকে শ্রমিকদের দিনে ১০-১২ ঘন্টা কাজ করা লাগতো,কিন্তু মজুরী ছিলো অত্যান্ত নগণ্য।১৮৬০ সালের দিকে শ্রমিকরা মজুরী না কেটে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবী জানান মালিক প¶ের কাছে।কিন্তু কার্যকারী কোনো সংগঠন না থাকায় তাদের এ দাবী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।পরবর্তীতে শ্রমিক শ্রেনী বুঝতে পারে মালিক শ্রেনীর শোষন এর হাত থেকে বাঁচতে তাদের সংগঠিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।ফলশ্রুতিতে ১৮৮০ সালের দিকে শ্রমিক্রা প্রতিষ্ঠা করে (ফেডারেশন অফ অরগানাইজড ট্রেডস এন্ড লেবার ইউনিয়নস অফ ইউনাইটেড স্টেটস এন্ড কানাডা) পরবর্তীতে ১৮৮৬ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় (আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার)।১৮৮৪ সালে সংগঠনটি ৮ ঘন্টা কাজের দাবী পেশ করে মালিক প¶ের কাজে এবং ১৮৮৬ সালের পহেলা মের মধ্যে দাবী কার্যকর করার জন্য অনুরোধ জানায়।পাশাপাশি শ্রমিকেরা একাত্মা হতে থাকেন তাদের দাবী আদায়ের ল¶্য।েশিকাগো শহর হয়ে ওঠে তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল।দাবী মেনে না নেওয়ায় আন্দোলন চরম রূপ ধারন করে,যার প্রেক্ষাপটে ৪ঠা মে শিকাগোর হে মার্কেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে শ্রমিকেরা মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হতে থাকেন।আগস্ট স্পীজ নামক এক শ্রমিক নেতা সমবেত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় দূরে দাঁড়ানো পুলিশ দলের কাছে এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে,বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য নিহত হলে পুলিশ বাহিনী শ্রমিকদের উপর আক্রমন শুরু করে,এতে ১১ জন শ্রমিক মারা যান।পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় আগস্ট স্পীজ সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।পরবর্তীতে ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর বিচারের নামে প্রহসন করে উন্মুক্ত স্থানে ৬ জনকে ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত করা হয়।ফাঁসির পূর্বে আগস্ট স্পীজ বলে যান “আজ আমাদের এই নিঃশব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে”।
পরে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তাক্ত অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে ১ মে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘মে দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
১৮৯৩ সালের ২৬শে জুন ইলিনয়ের গভর্ণর অভিযুক্ত ৮ জনকেই নিরপরাধ ঘোষনা করেন,এবং তাদের বিরুদ্ধে হুকুম দানকারী পুলিশ অফিসারকে দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।
বিশ্বের অন্যন্যে অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও  রাষ্ট্রীয় ভাবে দিনটি পালিত হয়ে থাকে।এই দিনে সভা সেমিনার সহ নানা আয়োজনে নিহত শ্রমিকদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন সহ,শ্রমিক অধিকার রক্ষার ব্যাপারে সবাই সচেষ্ট হওয়ার শপথ গ্রহন করেন।মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। সকাল ৭ টায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র্যা লির আয়োজন করা হয়।
সকল কাজ থেকে অব্যহতির এই দিনে শ্রমিক শ্রেনী নিজেদের মত করে এই দিনটা উদযাপন করে থাকেন।কেউ যান পরিবার সহ বেড়াতে,কেউ সিনেমা দেখতে,কেউ বা পার্কে,ইত্যাদি নানাবিধ আনন্দপূর্ণ কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে তারা দিবসটি পালন করে থাকেন।