ক্যানসার-অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ক্যানসার চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং জটিল নিওরোসার্জারি বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন ভারতের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালের (কেডিএএইচ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। 

সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক চিকিৎসা বিষয়ক সেমিনারে তারা এই অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালের এই চিকিৎসক প্রতিনিধি দলটি তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে এবং ওপিডি প্রোগ্রামে অংশ নিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসেন। ঢাকায় জেষ্ঠ্য চিকিৎসক পেশাজীবীদের নিয়ে আসার মাধ্যমে কেডিএএইচ বাংলাদেশের প্রতি তাদের অঙ্গিকার পুর্নব্যক্ত করেছে। 

বহুমুখী বিশেষায়িত কোকিলাবেন হাসপাতাল ভারতের দ্যা উইক এবং দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়ার র‌্যাংকিংয়ে পরপর দুবার মুম্বাই ও পশ্চিমাঞ্চলের সেরা হাসপাতালগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া এটি ভারতের অত্যাধুনিক ও  উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসাসেবা সম্পন্ন হাসপাতাল হিসেবে বিবেচিত।  

সেমিনারে চিকিৎসা পেশায় দুই যুগেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক ও কোকিলাবেন হাসপাতালের ক্যানসার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রাজেশ মিস্ত্রি ক্যান্সার চিকিৎসায় রোবোটিক সার্জারির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালেও অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। 

জার্মানি, সার্বিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রিকনস্ট্রাকটিভ ইউরোলজি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ক সার্জন ডা. সঞ্জয় পান্ডে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রিকনস্ট্রাটিকটিভ ইউরোলজি, ইউরোয়ানড্রোলজি বিষয়ে অন্যতম পথিকৃত চিকিৎসক হিসেবে বিবেচিত।

সুইজারল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিউরোসার্জন ডা. ঋষিকেশ সরকার জটিল নিউরোসার্জারি এবং মিনিম্যালি ইনভেসিভ স্পাইন সার্জারি বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি ভেলোরের সিএমসি এবং চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। 

চিকিৎসক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী কোকিলাবেন হাসপাতালের পরিচালক এবং কার্ডিয়াক সার্জন ডা. রাম নারায়ন কেডিএএইচ এর যাত্রার শুরু থেকে কিভাবে এককভাবে পশ্চিমাঞ্চলে সেরা হয়েছেন তার বর্ণনা করেন। 

কানাডা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরও জানান, সেরা হাসপাতাল হওয়ার পরও কম খরচে একই আদর্শ বজায় রেখে এখনো চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। নয় বছরের স্বল্প সময়ে এই হাসপাতাল ১২১টিরও বেশি দেশের রোগীদের সফলতার সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী রয়েছেন। 

প্রতিনিধি দলের দু'জন চিকিৎসক বাংলায় কথা বলতে পারেন। এটা চিকিৎসক সমাজ এবং সাধারণ রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।