রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল : ফের স্বপ্নভঙ্গ টাইগারদের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শিরোপার কাছাকাছি গিয়ে বারবার কেন হারে সাকিব-তামিমরা। কোটি কোটি টাইগার সমর্থকদের মনে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ছয় বছর ধরে। কবে আসছে স্বপ্ন জয়ের দিন। গতকাল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ফের তীরে এসে তরি ডুবাল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। স্নায়ুচাপের এ ম্যাচে শেষ দুই ওভারে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি রুবেল এবং সৌম্য সরকার। ভদ্র লোকের খেলা ক্রিকেটে ভালো খেললেই হয় না। ম্যাচ জিততে ভাগ্য লাগে। কথায় বলে ভাগ্য থাকলে ঠেকায় কে?

গতকাল প্রেমাদাসায় ভাগ্যল⊃2;ী সাকিবদের সঙ্গে ছিল না। থাকলে সৌম্যের শেষ বলটিতে দিনেশ কার্তিক কি ছক্কা হাঁকাতে পারতেন? চার রান হলে ম্যাচ টাই হয়। টাই মানে দুই দল যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। কেউ কেউ বলেন, ভাগ্য সর্বদা বীরের সঙ্গে থাকে। না থাকলে তো বলটি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে না দিয়ে মিডল স্ট্যাম্পে ফেললেই কেল্লাফতে ছিল। শ্বাসরুদ্ধ ফাইনালে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে ভারত। হারের ফলে টাইগারদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। ২০১২ সালে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরে গোমরে গোমরে কেঁদেছিলেন সাকিব আল হাসান। এ নিয়ে পাঁচটি ফাইনাল খেলেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না টাইগাররা। ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছিল তারা। এশিয়া কাপে ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হৃদয়বিদারক হার মানে সাকিব-তামিমরা। চার বছর পর আরেকটি এশিয়া কাপে ভারত পরাস্ত করে তাদের। গত জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ দাপটের সঙ্গে শুরু করেও আরেকবার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যর্থ হয় টাইগাররা।

বাংলাদেশের দেয়া ১৬৭ রানের চ্যালেঞ্জের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে ভারত। ৩২ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। দারুণ এ জুটি ভাঙেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। পরের ওভারে সুরেশ রায়নাকে খালি হাতে বিদায় করেন রুবেল হাসান। ফলে ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। কিন্তু টাইগারদের স্বপ্নে বাধা হয়ে তখনো উইকেটে ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়ে চাপ সামলে নেন অধিনায়ক। এরপর ১৫ রানের ব্যবধানে এ দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরাতে সমর্থ হলে আবার খেলায় ফিরে আসে টাইগাররা।


কিন্তু পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশকে বড় চাপে ফেলে দেয় মানিশ পান্ডে ও বিজয় শঙ্করের ৩৫ রানের জুটি। ইঙ্গিত দিচ্ছিল আরো ভয়ঙ্কর কিছুর। আর ঠিক তখনই দলের ত্রাতা হয়ে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১৮তম ওভারে প্রথম ৪ বলই দেন ডট। পঞ্চম বলে লেগ বাইয়ের সূত্রে আসে ১ রান। প্রান্ত বদল। স্ট্রাইকে আসেন মানিশ। তাকে সাব্বিরের ক্যাচে পরিণত করে টাইগারদের উল্লাসে ভাসান কাটার মাস্টার। উইকেটÑ মেডেন নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান তিনি। কিন্তু ম্যাচের তখন মূল উত্তেজনাই বাকি। শেষ দুই ওভারে তখন দরকার ৩৪ রান। কিন্তু রুবেল হোসেনের করা ১৯তম ওভারে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২২ রান তুলে নেন দিনেশ কার্তিক। আর তাতেই শেষ হয় টাইগারদের স্বপ্ন।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১২ রানের। একজন পার্ট-টাইম বোলার হিসেবে শুরুটা খারাপও করেননি সৌম্য। প্রথম ৩ বলে দেন ৩ রান। চতুর্থ বলে চার মারতে সমর্থ হন শঙ্কর। পঞ্চম বলে আউটও করেন তাকে। শেষ বলে দরকার ৫ রানের। কিন্তু শেষ বলে ভাগ্যটা যায় কার্তিকের সঙ্গেই। ছক্কা মেরেই দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। আরো একটি স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। মাত্র ৮ বলে ২৯ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন কার্তিক। ২টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। তবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন অধিনায়ক রোহিত।

রবিবার টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই মারমুখী আচরণ শুরু করেন দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। তবে ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ওপেনাররা। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ২৭ রানে আউট হন লিটন দাস। এরপর পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার তামিম। ব্যক্তিগত ১ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন সৌম্য সরকার। মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার আগে করেন ৯ রান। পঞ্চম উইকেটে ব্যাট করতে নামা আগের ম্যাচের নায়ক মাহমুদউল্লাদকে সঙ্গে নিয়ে ভালোই খেলছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে ২১ রান করে রানআউট হন মাহমুদউল্লাহ। এদিকে ব্যাট হাতে আপন তালে খেলতে থাকেন সাব্বির রহমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি। দলের হয়ে কিছু রান করার সুযোগ ছিল অধিনায়ক সাকিবের। কিন্তু বিশ^সেরা অলরাউন্ডারও ৭ রান করে রানআউট হন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় টাইগাররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন সাব্বির রহমান। ১৬ বলে ২১ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর মাত্র ৭ বলে ১৯ রান করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফাইনালে টাইগারদের কাছ থেকে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন কেড়ে নেয়া দিনেশ কার্তিক ৮ বলে ২৯ রানে ঝড়ো ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। তরুণ পেসার ওয়াশিংটন সুন্দর সিরিজসেরা হয়েছেন। ম্যাচ শেষে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন,‘একদিন আমরাও জিতব। সে দিন বেশি দূরে নয়, টাইগাররা বিদেশের মাটি থেকে শিরোপা জয় করে দেশে ফিরবেÑ এমন আশায় বুক বেঁধে রয়েছে ১৬ কোটি টাইগারর সমর্থক। শ্রীলঙ্কা থেকে আজ দুপুরে ঢাকায় ফিরবে টাইগাররা।