নিকলীতে শ্রমিক সংকটস দুই মণ ধানেও মিলছে না একজন কৃষি শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাওরে বোরো ধান কাটার পুরো মৌসুমে কৃষি শ্রমিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দুই মণ ধানের দামেও একজন কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নিকলীর শত শত কৃষক তাদের পাকা ধান কেটে বাড়িতে আনতে পারবেন কি-না এ ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে হাওর ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কৃষক অর্ধেক আবার কোনো কৃষক তার চেয়েও বেশি ধান কেটেছেন। উপজেলায় এখন বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে পাকা ধান থাকলেও কাটার শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। হাওরে পাকা ধান কাটার জন্য দুই মণ ধানেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিরুপায় অনেক কৃষক আরো বাড়তি টাকা দিয়েই শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটছেন। এদিকে ধানের দাম কম থাকায় শ্রমিকের পেছনে ওই বাড়তি ব্যয়ের জন্য কৃষকরা আরো বেশি লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।উপজেলার নোওয়াপাড়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, একজন কৃষি শ্রমিককে দিতে হয় ১২’শ টাকা। তাই পরিবারের লোকজন নিয়েই জমির ধান কাটছি।

উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের কৃষক আছির উদ্দিন বলেন, এ বছর তিনি প্রায় ছয় একর জমিতে ব্রি ২৯ জাতের ধানের চাষ করেছেন। ১২’শ টাকা দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ায় এখনও এক চিলতে জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি না। অথচ দুই মণ ধানের দাম ১ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুণ অর রশিদ বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নিকলী উপজেলায় ১২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের হাওরে প্রায় ৭০% বোরো ধান কাটা হয়েছে। এ এলাকায় ব্রি ২৮ ও ব্রি ২৯ জাতের ধানের চাষ বেশি হয়। তবে শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় কৃষকরা চিন্তিত।