মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি হয়েছে, তালিকানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চিরতরের জন্য আমরা মাদককে না বলবো। মাদক ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে ঠাঁই নেই। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করেছি, তালিকানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আজ সকাল সাড়ে ১১ টায় ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাদক বিরোধী কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উদ্যোগে এই মাদক বিরোধী কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।

‘মাদক পরিহার করুন, নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ডিএমপি’র মাদক বিরোধী অভিযান। যদিও ডিএমপি নিয়মিতভাবে সারা বছর মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি হুঁশিয়ারী দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা বাংলাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। ডিএমপি আগে থেকে মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সচেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে বলেছেন।’

রমজানে ডিএমপি’র গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ঢাকা মহানগরকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে এসেছেন। যার সুফল আপনারা এখন পাচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদকের আগ্রাসন থেকে বাঁচতে আপনার পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিশেষ নজর রাখবেন। যারা মাদক ব্যবসা করে তাদের খবর পুলিশকে দিন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমরা নিয়মিত মাদকের বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ করবো। সকল শ্রেণী, পেশার মানুষ একত্র হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে ডিএমপি’র অবস্থান সম্পর্কে কমিশনার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। ডিএমপি মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান করছে। অভিযানে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে আমরা গ্রেফতার করেছি। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক মাদকদ্রব্য। জনগণের সহায়তা নিয়ে জঙ্গিবাদের মত আমরা সফলভাবে মাদককে নির্মূল করবো।’

কমিশনার আরো বলেন, আমরা রমজানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিচ্ছি। যার ফলে রমজানের এই কয়দিনে বড় কোন অপরাধ ঘটেনি। শপিংমলগুলোতে নগরবাসী নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাকাটা করছে। বর্তমানে অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য নেই বললেই চলে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন ৮০০ ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতার করে। মাদক ক্যান্সারের থেকেও ভয়াবহ। মাদক নিজেকে ও পরিবারকে ধ্বংস করছে। মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে আহবান জানান তিনি।এর পরপরই ফার্মগেট এলাকায় বিভিন্ন গাড়িতে মাদক বিরোধী শ্লোগান সম্বলিত স্টিকার ও পোস্টার লাগান এবং পথচারী ও যাত্রীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিএমপি কমিশনার।

উক্ত মাদক বিরোধী সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।