সড়কে সরব সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সক্রিয় রয়েছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার কাজে। মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে দেখেছেন ফিটনেসহীন গাড়িতে রং দেওয়ার কাজ। ওয়ার্কশপ সিলগালা করাসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া তিনি প্রতিদিন নিজের ফেসবুক পেজে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন বিষয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে নানা পদক্ষেপে সহযোগিতা চেয়েছেন মানুষের।

ঈদ যাত্রা সামনে রেখে ফিটনেসহীন গাড়ি রং করে রাস্তায় নামানোর উদ্যোগ চলছে জানতে পেরে গতকাল দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আকস্মিক পরিদর্শনে যান মিরপুর এলাকা। মাজার রোডের মস্তুফা ইঞ্জিনিয়ারিং ও গাবতলী-টেকনিক্যাল সড়কের পাশে মোটর ওয়ার্কশপগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। সম্পূর্ণ বেআইনি এ কাজে নিয়োজিত ওয়ার্কশপগুলো সিলগালা করতে তিনি বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।

এর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, যানজটটা হচ্ছে এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে। এই গাড়িগুলো ঈদকে সমনে রেখে রাস্তায় যাবে, জায়গায় জায়গায় নষ্ট হবে, রাস্তা বন্ধ করে দিবে, লম্বা যানজট সৃষ্টি করবে। রাস্তায় দু-একটা ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরে তো লাভ হবে না। এগুলো শত শত, তা কারখানায় আনা হয়। এসব কারখানাকে মানুষ মারার কারখানা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির শক্তি কমে গেছে তাই উগ্র সমালোচনায় নেমেছে। মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তখন মুখের বিষটা ততই উগ্র হয়ে আসে। এটা শরৎচন্দ্রের ভাষা। বিএনপির ক্ষেত্রে এটা একেবারেই সত্য। নির্বাচনের শিডিউল ডিক্লিয়ারের আর চার-পাঁচ মাস বাকি। এর মধ্যে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বেগম জিয়া জেলে থাকলে তারা নির্বাচন করবে কি করবে না, এটা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর বেগম জিয়া জেল থেকে বের হবে কি না, সেটা আদালতের ব্যাপার। এখানে সরকারের কোনো দায় নেই, সরকারের ওপর তারা দোষ চাপাচ্ছে কেন? সংবিধান অনুযায়ী দেশও চলবে, গণতন্ত্রও চলবে, নির্বাচনও চলবে। বিএনপির জন্য কোনো কিছু আটকে থাকবে না। বিএনপি না এলেও নির্বাচন যথাসময়ে হবে। বিএনপি আসুক, আসলে স্বাগতম।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজের ফেসবুক পেজে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের নেওয়া কর্মসূচি, প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরছেন তিনি। গতকাল এক স্ট্যাটাসে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা ২০২০ সালের মধ্যে অর্ধেকে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। এ জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৪৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক সড়কদ্বীপসহ প্রশস্ত করার কাজ শেষ করে এনেছে। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তিন বছর মেয়াদি ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান। প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে সড়ক দুঘটনা সহনীয় পর্যায় থেকে শূন্যে নিয়ে আসতে চাই।’

আগের দিন তিনি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ফেসবুকে জানান, এবারের ঈদ যাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।