১৪ জুনের টিকিটের জন্য হন্যে দূরপালস্নার যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার অগ্রিম বাসের টিকিট বিক্রি শুরম্ন হয়েছে। আর কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেতে বুধবার রাতে সেহেরি শেষ করেই বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ভিড় করেছিলেন। বিশেষ করে রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারে সকাল ৭টা নাগাদ ছিল দূরপালস্নার বাসের অগ্রিম টিকিটপ্রত্যাশী মানুষের ঢল। বেশিরভাগ মানুষের চাহিদার শীর্ষে ছিল ১৪ জুনের টিকিটের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এ দিনের কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে অনেককেই হতাশ হতে দেখা গেছে।
বাস মালিকরা বলছেন তাদের হাতে অন্য দিনের বিপুলসংখ্যক টিকিট থাকলেও সাধারণ মানুষ তা কিনতে আগ্রহী নয়। কিন্তু ১৪ তারিখে সবাই একই সঙ্গে টিকিট চাওয়ায় তা দিতে গিয়ে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
এ প্রসঙ্গে সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার সোলায়মান হোসেন বলেন, 'প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের আগের শেষ অফিসের দিনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিক্রি শুরম্নর মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের কাউন্টারের ১৪ তারিখের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। সকালে প্রচুর ভিড় ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় কমলেও ১৪ তারিখের টিকিটের চাহিদা কমেনি। চারদিক থেকে ফোন আসছে এ দিনের টিকিটের জন্য। রাজধানীর প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীরা ১৪ তারিখের টিকিট চাচ্ছে। কিন্তু আমাদের গাড়ির সংখ্যা সীমিত। চাইলেও একদিনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি সেবা প্রদান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'অন্য দিনের টিকিটের মধ্যে ১৩ তারিখের টিকিটের কিছু বিক্রি হলেও ৭ থেকে ১১ তারিখের টিকিটের বিক্রি নেই বললেই চলে। এসব দিনের টিকিট প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত টিকিট আমাদের হাতে রয়েছে। কিন্তু যাত্রীরা তা কিনতে চাইছে না।'
গতকাল রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের দীর্ঘ সারি। এদের একজন বেসরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি তীর আটার একজন কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। কোনো তারিখের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, '১৪ তারিখে অফিস শেষ। এদিন রাতের টিকিট লাগবে আমার। স্ত্রী, সন্ত্মান নিয়ে যেতে হয় বলে আগেভাগে টিকিট কিনতে এসেছি। চারটি টিকিট প্রয়োজন। কাউন্টারে খোঁজ নিয়েছি। এখনো ১৪ তারিখের টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে। এখন একই স্থানে চারটি সিট পেলে হয়।'
তবে আব্দুল হালিমের সঙ্গে কথা বলার প্রায় ঘণ্টা খানেকের মধ্যে কাউন্টারজুড়ে হাহাকার-হৈহুলেস্নার শুরম্ন হয়ে যায়। কাছে গিয়ে টিকিটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাউন্টার থেকে তাদের জানানো হয়েছে ১৪ তারিখের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ১৪ জুনের টিকিটের জন্যই। ফলে এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটোছুটিও শুরম্ন হয়ে যায় লোকজনের মধ্যে। যে কাউন্টারে টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে সে কাউন্টারে গিয়ে ভিড় করতে থাকে সকলেই।
গাবতলীতে হানিফ টিকিট কাউন্টারের কাউন্টার ম্যানেজার মনিরম্নল ইসলাম বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবেদককে বলেন, 'আমাদের গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখনো কিছু টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু মানুষের যে চাপ তা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। আমাদের টিকিটও আর ঘণ্টা খানেকের ভেতর শেষ হয়ে যাবে।'
তবে অন্য দিনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান হানিফ কাউন্টারের এ ম্যানেজার। অন্য বাসের কাউন্টারেও কথা বলে একই রকমের চিত্র ফুটে উঠেছে। গাবতলীতে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রায় সব কাউন্টারের ১৪ জুনের টিকিট শেষ হয়ে যায়। এরপর টিকিটপ্রত্যাশীরা আসলেও তাদের কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট না পেয়ে অনেকে ফিরে গেছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে একদিন আগের বা পরের টিকিট কিনেছেন।
উত্তরবঙ্গগামী একজন টিকিটপ্রত্যাশী এনায়েত বলেন, 'সকাল ৮টায় এসেছি। তারপরও ১৪ তারিখের কোনো টিকিট পেলাম না। এখন বাধ্য হয়ে ১৩ তারিখের টিকিট নিচ্ছি। একদিন অফিস না করেই চলে যেতে হবে। সঙ্গে পরিবার থাকায় বেশি ঝামেলা। তা না হলে টিকিটই নিতাম না। কাটা লাইনে চলে যেতাম।'
তবে রংপুরের টিকিটপ্রত্যাশী আরেক যাত্রী আরিফ হোসেন জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, '১৪ তারিখের টিকিট পাইনি। তাই স্ত্রী-সন্ত্মানদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দেব। আমি নিজে ১৪ তারিখে কাটা লাইনে চলে যাব।'
প্রসঙ্গত, রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্ত্মান থেকে দূরপালস্নার বাস চলাচল করে থাকে। এবার ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরম্ন হচ্ছে কিছুটা দেরি করে। এ টিকিট দেয়া হবে ১ জুন থেকে। তবে বরাবরের ন্যায় এবারও বিআরটিসির বাসের আগাম টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। বরং তাৎক্ষণিক টিকিট বিক্রি করে দূরপালস্নার উদ্দেশে রওনা হবে সরকারি এ পরিবহনটি।