বিএসএমএমইউ চাইলে কাজী কামালের চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গঠিত মেডিকেল বোর্ড চাইলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। কাজী কামালের এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার এই আদেশ দেন হাইকোর্ট।

শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন। আদালত থেকে বের হবার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কাজী কামাল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আদালতে। এর শুনানি নিয়ে বিএসএমএমইউ বোর্ড চাইলে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে আদেশ দেন আদালত।

এর আগে জামিন চেয়ে এই আদালতে আবেদন করেছিলেন কাজী কামাল। আদালত তা নামঞ্জুর করে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তা মূলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখেছেন।

এই মামলায় বিচারিক আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কাজী কামালকে।

আদালতে তার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই বেঞ্চেই মামলাটির আপিল নিষ্পত্তি করতে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের মধ্যে কারাবন্দি তিনজনেরই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বাকী তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালত কারাগারে থাকা তিন আসামির আপিল শুনানি এবং খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে জারি করা রুলের শুনানি একইসঙ্গে নেবেন।

খালেদা জিয়া ও কাজী কামাল ছাড়া আটক অন্যজন হলেন— ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

আর আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক তিনজন হলেন— বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পান খালেদা জিয়া। পরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করেন কাজী কামাল। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ এবং অর্থদণ্ড স্থগিত করে নথি তলব করেন।

এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

১০ মে আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

এদিকে, খালেদা জিয়া আপিলের পর জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন।