ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে টিকিট দেয়া হয়। এ দিনের টিকিট পেতে আগের দিন রাত থেকেই স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীরা লম্বা লাইনে দাঁড়ান। 
সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পরই সার্ভারে সামান্য জটিলতা দেখা দেয়। এতে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট বিলম্বে কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়া শুরু হয়। এ নিয়ে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিলেও কিছুক্ষণের মধ্যে তা সমাধান হয়ে যায়। 
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে সবাই সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। এবার কাউন্টারের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬টি করা হয়েছ। শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী কাজ করছে। তিনি বলেন, ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে এই টিকিট দেয়া হচ্ছে। আজ শনিবার দেয়া হবে ১১ জুনের অগ্রিম টিকিট। 
স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার ২৬টি কাউন্টার থেকে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি কাউন্টার থেকে মহিলাদের টিকিট দেয়া হয়েছে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কালোবাজারিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছেন। ১৬ জুন ঈদের সম্ভাব্য দিন ধরে আগাম ৫ দিনের টিকিট বিক্রির সময় নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। এ দিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ট্রেনের কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশীদের তুলনামূলক বেশি ভিড় ছিল। 
পুরান ঢাকার বাসিন্দা খালেকুজ্জামান জানান, তিনি জামালপুরের দেওয়াগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকিটের জন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকেই স্টেশনে অবস্থান করছিলেন। লাইনে তিনি পাঁচ নম্বরে ছিলেন। এ কারণে টিকিট পেতে সমস্যা হয়নি। লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট কিনতে আসা হারুন অর রশিদ বলেন, আসলে ট্রেনের জার্নি অনেক নিরাপদ। তাই তো এতো কষ্ট করি। এজন্যই টিকিট পেতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। নারী কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ১০ তারিখের রাজশাহীগামী ট্রেনের টিকিট পেতে অপেক্ষায় ছিলেন রুমা খাতুন। তিনি বলেন, সেহরির পরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সকাল সাড়ে ৯টায়ও মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল। তিনি বলেন, নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার খোলা হলেও টিকিট বিতরণে কিছুটা ধীরগতি ছিল। তবে বেলা পৌনে ১১টায় নারীদের কাউন্টার অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়। টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা আব্দুল আজিজ বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে আমরা টিকিট বিক্রি করেছি। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করলে আমরা তা ভালোভাবে বিতরণ করতে পারবো বলে জানান তিনি।