ইফতার না করেই ছুটে পালাতে হয়েছে ৫০০ রোজাদারকে

June 2, 2018, 12:26 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি। কোনো কারণ ছাড়াই দলটির নানা কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে। ভাঙচুর করা হয়েছে জেলা জাতীয় পার্টির অফিস। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীর সফরেও দেয়া হয়েছে বাগড়া। ছাত্রলীগ-যুবলীগ মন্ত্রীর সফর ঠেকাতে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মন্ত্রীর সফর বাতিল করতে হয়েছে বিজয়নগর উপজেলায়।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জেলা জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে হামলা চালানো হয়। এতে আনুমানিক ৫০০ রোজাদারকে ইফতার না করেই ছুটে পালাতে হয়েছে। হামলায় আহত হন পাঁচজন। যে হুজুর ইফতার পূর্ব দোয়া পরিচালনা করেন আহত হয়েছেন তিনিও। তাকে দিতে হয়েছে ৭টি সেলাই। ভাঙচুর করা হয়েছে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার গাড়ি। এ ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরাইলের বিশ্বরোডের একটি হোটেলে জেলা জাতীয় পার্টি সংবাদ সম্মেলন করে। এতে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয় পুলিশ প্রহরাতেই পরিকল্পিত এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুরের আগে ওই গাড়িটির পাশে থাকা সরাইল সার্কেলের এএসপির গাড়িটি সরিয়ে নেয়া হয়। ইফতার পার্টির বিষয়টি জেলা পুলিশকে অবহিত করে আগেই নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে। কিন্তু তারা কোনো নিরাপত্তা না দিয়ে ঘটনার সময় নীরব দাঁড়িয়ে থাকে। এসব অভিযোগ তুলে ধরা ছাড়াও একের পর এক জাতীয় পার্টির সঙ্গে এমন ঘটনা চলতে থাকার ব্যাখ্যা দেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এমপি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ওই হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন ঘিরেও ব্যাপক পুলিশের সমাগম ঘটানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ইফতার পার্টির জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে নিরাপত্তার জন্য চিঠি দেয়া হয়। তাদেরকে নিমন্ত্রণও করা হয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারকে আমি চিঠি দিয়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে ফোনে নিমন্ত্রণ করি। গুঞ্জন ছিল এখানে একটা কিছু ঘটবে। তবে এই ঘটার বিষয়টি নতুন নয়। কিছু দিন আগে পুলিশের উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়। জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থা, অগ্রযাত্রা কারো কারো জন্য মারাত্মক ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়ভীতি আতঙ্ক সৃষ্টি করার চক্রান্ত হিসেবে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে তারা। তিনি বলেন, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা আবদুল ওহাবকে দল থেকে দুই বার বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কাঁধে ভর করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এক নারকীয় অবস্থার সৃষ্টি করে ইফতার পার্টিতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার এই নারকীয় ঘটনার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। সেখানে ৫০ জন পুলিশ ছিল। তাদের সামনেই আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসময় আরো ৪টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এসপি’র সঙ্গে কথা বলি এসব কী হচ্ছে। তখন তিনি আমাকে বলেন, স্যার আপনাদের দল থেকে নাকি কাকে বের করে দিয়েছেন। এটা আপনাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই আমার দল থেকে যদি কেউ বহিষ্কৃত হয়ে থাকে, সে যদি গুণ্ডা বাহিনী সাজিয়ে আক্রমণ করতে আসে, তখন তাকে প্রতিহত করা বা দাঙ্গা দমন করা কি পুলিশের দায়িত্ব ছিল না? সেই দায়িত্ব অজ্ঞাত কারণে পুলিশ পালন করেনি। তিনি বলেন, শ্বশুর-ভাসুরের নাম সবাই জানে। মুখ দিয়ে প্রকাশ করেন না, লজ্জা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সব রাজনীতিবিদ, সব সমাজসেবীদের মুখ তালাবদ্ধ হয়ে গেছে লজ্জায়। আমরা শ্বশুর-ভাসুরের নাম জানি, উচ্চারণ করিনি ভয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল রাজনৈতিক সহাবস্থানের তীর্থভূমি। কিন্তু আজকে এখানে আতঙ্কজনক অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, হামলার পেছনে বড় মহলের হাত ছিল। যে মহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সিভিল প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যার নির্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব রাষ্ট্রযন্ত্র অচল হয়ে যায়। এমন একটি মহলের চক্রান্তে এই ঘটনা ঘটেছে। নমিনেশনের ব্যাপারটাই এখানে আসল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছি। মোকতাদির চৌধুরী কয়েকদিন আগে অভিযোগ করেন আমি নাকি জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছি। বিভক্ত করার চেষ্টা করছি। মেয়ের জামাইকে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছি। আমি হলফ করে বলতে পারি বাংলাদেশে যত এমপি আছেন, রাজনীতিবিদ আছেন এরমধ্যে আমি একমাত্র শান্তিবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমি ক্যাডার রাখি না সঙ্গে। গুণ্ড বাহিনী লালন করি না। অতি সাধারণভাবে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু বারবার আমার ওপর হামলা হয়। তিনি তার বিরুদ্ধে একটি মহলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার বিরোধিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। নির্বাচনে জয়ের পরও উচ্চ আদালতে তাকে অবৈধ করতে মামলা দেয়া হয়। এরপর তার এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও হস্তক্ষেপ করা হয়। আমার নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা হলেও, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা দেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতারা দেশ নিয়ে ভাবেন না। তার ভাবেন সংকীর্ন স্বার্থে সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসন নিয়ে ।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলার জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি রাজপথ ও নৌপথ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা রেজউল ইসলাম ভূঁইয়া, সরাইল উপজেলা জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির, আশুগঞ্জ উপজেলা জাপার সদস্য সচিব মিরাজ শিকদার প্রমুখ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে শহরের স্টেশন রোডে জেলা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়। এ মাসের প্রথমে পানিসম্পদমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিজয়নগর উপজেলায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে এরশাদের বিরুদ্ধে একটি পোস্টার প্রচারণাও চালানো হয়।