‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ কুড়িগ্রামবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

June 3, 2018, 12:12 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর ওপর নির্মিত ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ আনুষ্ঠানিকভাবে রবিবার (৩ জুন) উদ্বোধন করা হবে। সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধরলা সেতুটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জনদুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার। সেতুটি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি উত্তর ধরলার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।’

উদ্বোধন উপলক্ষে সেতুটির সাজসজ্জাসহ দুই পাড়ে সব প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্স প্রচার করার জন্য সেতুর পূর্ব পাড়ে তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল।

এলজিইডির অধীনে সেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে ২০১৪ সালে সিমপ্লেক্স ও নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সঙ্গে যৌথ চুক্তি সম্পাদিত হয়।  ১৯টি স্প্যান সম্বলিত এ সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে।  ডিসেম্বরে আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়। 

এই সেতুর ফলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জনগণ, বিশেষ করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী; নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হবেন। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমের এই অঞ্চলের মানুষের অন্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে।

সেতুটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেতুটি চালুর ফলে ভুরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহন অনেক সহজ হবে। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে জটিলতাও কমবে এই সেতুর ব্যবহারে। এছাড়া, বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ীর ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ দিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টারস (আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুণাচল) রাজ্যগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও কমবে বহুলাংশে। এসব রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা হয়ে কলকাতার যোগাযোগও অনেক সহজ হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী বলেন, ‘কুড়িগ্রামের মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টির ফসল এই সেতু। রমজান, ঈদ এবং স্থানীয় জনগণের যাতায়াতে দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জেলা সমন্বয়ক কমিটির সিদ্ধান্ত ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা মোতাবেক ইতোপূর্বে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এখন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন জেলাবাসীর ঈদ আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’