বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘেটেঢ। রোববার ভোর পৌনে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

পরে বেনাপোল, ঝিকরগাছা ও যশোর ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার টার্মিনালে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাক অবস্থান করে। পাশাপাশি ভারত থেকে বিভিন্ন যানবাহনের চেসিস, ও নতুন সিকেডি মোটর সাইকেল রাখা হয়। আর এক পাশে এসিড ও ব্লিসিং পদার্থ ছিল। এসিডের ড্রাম বিস্ফোরিত হয়ে একটি ট্রাকে পড়লে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্র ও শনিবার ছুটি থাকায় বন্দর অভ্যন্তরে ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রাক রেখে চালকরা ভারতে নিজ বাড়িতে চলে যায়। এসব ট্রাকে তুলা, সুতা, মটর পার্টস ও কেমিকেল পণ্য ছিল। আগুনে ভারতীয় পণ্যবোঝাই ১০-১২ টি ট্রাক ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এদিকে আগুনের খবর পেয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, বন্দর পরিচালক আমিনুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। 

ফায়ার সার্ভিস যশোরের উপ-পরিচালক পরিমল কুন্ডু বলেন, সেহেরির সময় আগুন লাগায় এলাকাবাসীর অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আগুনের খবর পেয়ে বেনাপোল, যশোর ও ঝিকরগাছা থেকে  ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্পটে আসার পর আগুনের পরিস্থিতি দেখে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। 

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপ্রতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে শুধুমাত্র ভারত থেকে আসা পণ্যবোঝাই ট্রাক থাকার কথা। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ এর ভিতরে বিভিন্ন প্রকার মালামাল রাখে। এছাড়াও ভারতীয় ট্রাকচালকরা টার্মিনালের মধ্যে যত্রতত্র আগুন জ্বালিয়ে রান্নার কাজ করে। তাদের রান্না ও খাওয়ার জন্য আলাদা শেডের ব্যবস্থা করা দরকার। 

তিনি বলেন, বার বার আমদানি কারকদের পণ্য আগুনে পুড়লেও বন্দর থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। বন্দর আজ পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্যের উপর বীমা চালু করতে পারেনি।     

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, আগুনে ট্রাকে থাকা তুলা, ব্লিসিং পাউডার, এসিড ও হিরো কোম্পানির মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না।

যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে আমরা তার জন্য চেষ্টা করব। 

অন্যদিকে আগুনে পণ্যবোঝায় ট্রাক পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে পণ্য আমদানি-রফতানির ট্রাক না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় ট্রাক ও ট্র্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়ন।