মায়ের শেষ যাত্রায় মেয়ের আদর

March 20, 2018, 9:45 am নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চার নম্বর অ্যাম্বুলেন্সে করে নাবিলার লাশ সোমবার বিকাল সোয়া ৫টায় আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পুলিশ তার স্বামী আনান আহমেদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেয়। এরপর আর্মি স্টেডিয়াম থেকে ফের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে নাবিলার মরদেহ তোলা হয়। অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পাশের আসনে বাবার কোলে বসে ছোট্ট হিয়া। এ সময় নাবিলার বাবার পক্ষের স্বজনরা তার মরদেহ নিতে চান। তবে তার স্বামী মরদেহ তার তেজগাঁওয়ে বাসায় নিয়ে যান। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার পূর্ব নাখালপাড়ার বাসায় আনার পর স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

কফিনবন্দি মায়ের কাছে বাবার কোলে বসে থাকা হিয়া মা মা করে ডাকছিল। বলছিল, মা তুমি ব্যথা পেয়েছো? মা তুমি কোথায় ব্যথা পেয়েছো? এমন অনেক প্রশ্ন, যার আর উত্তর মেলেনি। এরপর দাদির কোলে চড়ে হিয়াকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই নাবিলার মরাদেহের তৃতীয় জানাজা হয়। পরে তেজগাঁওয়ের একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

উত্তরার ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্রী নাবিলা ফারহিন ২০১৬ সালে যোগ দেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে। ২০০৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে দাদির কাছেই ছিলেন নাবিলা। ২০১৪ সালে বিয়ে করেন তিনি। তখন থেকে নিজ পরিবার বিচ্ছিন্ন ছিলেন নাবিলা। বিয়ের বিষয়টি তার পরিবার মেনে নেয়নি। হিয়ার জন্মের পর মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। গত দুইমাস ধরে থাকতেন উত্তরার একটি ভাড়া বাড়িতে। এর আগে পূর্ব নাখালপাড়ার শ্বশুর বাড়িতেই ছিলেন তিনি। ছোট্ট হিয়াকে গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে ফ্লাই করতেন।

দুর্ঘটনার সময় স্বামী আনান আহমদ হাসান একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। এরপর তিনি জামিন পেয়ে নেপাল যান। স্ত্রীর লাশ শনাক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে বিমানের পাইলট, কো পাইলট ও কেবিন ক্রুসহ নিহত হয়েছেন ২৬ জন।