আইন থাকলেও নিশ্চয়তা নেই নিরাপদ খাদ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি। আর ওই খাদ্যই যদি হয় অনিরাপদ তাহলে তো মৌলিক অধিকারই খর্ব হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের নামি-দামি প্রতিষ্ঠানে মিলছে ভেজাল খাদ্যের সন্ধান। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিনিয়ত জেল-জরিমানা করে যাচ্ছে ভেজালকারীদের।

এক্ষেত্রে আইন, বিধি থাকার পরও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার প্রশ্নে জনমনের আশঙ্কা দূর হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভেজালকারীদের সাজা হলেও আইনি ফাঁক-ফোকরে বের হয়ে যায় আসামিরা।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন হলেও লোকবলের অভাবে তাও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না বলেও জানা যায়।

নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক বলেন খাদ্যে ভেজাল দেওয়া হত্যাকাণ্ডের মতোই একটি অপরাধ। বিষমুক্ত খাদ্য আমাদের অস্বস্তির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা প্রতিরোধ করতে না পারলে ভবিষ্যত হবে ভয়াবহ।

খায়রুল হক বলেন, খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধে যেমন আইন প্রয়োগ জরুরি তেমনি প্রয়োজন তৃণমূল থেকে সচেতনতা গড়ে তোলা। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সকলকে কঠোর হয়ে মনিটরিং করতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবী মনজিল মোরসেদ  বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের কতগুলো দায়দায়িত্ব রয়েছে। এসব দায়িত্ব পালন করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগণের পকেট কেটে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারতো না। এসব নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার, বিএসটিআই, খাদ্য অধিদপ্তরএবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পদক্ষেপ নিলেও দিন-গড়ালেই নির্দেশ অকার্যকর হয়ে যায়।’

ভেজাল প্রতিরোধে দেশে পর্যাপ্ত এবং আইনের ক্ষমতা যথার্থ দেওয়া আছে উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালমুক্ত খাবার পেতে হলে সরকারের প্রশাসনিক যন্ত্রের অনেক দায় রয়েছে। নিরাপদ খাদ্যের জন্যসাধারণ মানুষসহ আমরা সকলেই সোচ্চার আছি।’

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অথরিটি গঠন করা হলেও অথরিটিকে সরকার সে সরকম কোনো ক্ষমতা দেয়নি। বাজার মনিটরিং করতে যে ধরনের লোকবল প্রয়োজন তাও তাদের দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে বড় প্রয়োজন হলো সরকারের সু-দৃষ্টি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আইনের কোনো কোনো ধারা করা যাচ্ছে না। সেটি শনাক্ত করে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ওই সব অথরিটিকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হবে।

মোবাইল কোর্ট করে অহরহ জেল-জরিমানা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় আপিলে এসব আসামিরা খালাস পেয়ে যায় উল্লেখ করে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, মোবাইল কোর্টের সাজার ৯৫ ভাগই আপিলে খালাস হয়ে যায় প্রমাণের অক্ষমতার জন্য। এ জন্য মোবাইল কোর্টসহ অথরিটিকে খাদ্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে গুণগত মান সম্পন্ন যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ লোকবল দিয়ে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সরকারের দায়িত্ব।

লিগ্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির জানান, মূলত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন একটি স্বাধীন স্বয়ংসম্পূর্ণ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কেবল খাদ্যের নিরাপত্তায় ভালোভাবে কাজ করা যেতে পারে। বর্তমানে যেটি আছে তা হলো এডহক ভিত্তিতে। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সুচারুভাবে কাজ করা সম্ভব না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও একটি স্বাধীন অর্থনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। যা নিরাপদ খাদ্য আইনেও সেটি বলা আছে।