ঈদেও ওদের মুখ যন্ত্রণায় নীল

June 12, 2018, 10:56 am নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

সড়কে এখন মানুষের জীবনই যেন সবচেয়ে সস্তা, তুচ্ছ। পরিবহন এখানে অপ্রতিরোধ্য। মৃত্যু কারণ শূন্য। চলতি বছরে সড়ক দুর্ঘনায় নিহত রাজীব, রোজিনা, আহত রাসেল, হৃদয়দের পরিবারে আর ঈদের আনন্দ নেই। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো শোকাচ্ছন্ন। দুই বাসের চাপায় কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।রাজীবের পর বাসচাপায় পা হারান রোজিনা আক্তার। এই দুজনের মৃত্যুর পর নগর পরিবহনের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। কিন্তু তার পরও হাত-পা হারিয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন খালিদ হাসান হৃদয়, রাসেল সরকার, পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, রুনি আক্তার ও আয়েশা খাতুন। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রথমে হাত হারালেন রাজীব, শেষে জীবনও। মা-বাবা হারানো পরিবারে বড় ভাই রাজীব হোসেনই ছিলেন ছোট দুই ভাই মেহেদী ও হৃদয়ের একমাত্র আশ্রয়। এ বছর ভাইকে ছাড়া কীভাবে ঈদ করবে মেহেদী হাসান ও আবদুল্লাহ হৃদয়। মেহেদী বলেন, ঈদের ছুটিতে আমি আর ছোট ভাই হৃদয় গ্রামের বাড়ি যেতাম। গ্রামের বাড়ি বলতে পটুয়াখালীর বাউফলে নানাবাড়ী। মা-বাবার কবর এখানেই। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছাটা তীব্র হতো। আমাদের ভীষণ ইচ্ছা ছিল তিন ভাই মিলে কোনো এক ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাব। যেতে যেতে অনেক আনন্দ করব। বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার কবরের পাশে দাঁড়াব। কিন্তু এবার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাইয়ার কবরের পাশেও যে দাঁড়াতে হবে কখনোই ভাবতে পারিনি।