জাতীয় ফল প্রদর্শনী শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সারা বছর ফল পেতে ছোট-মাঝারি শিল্প স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। রাজধানীতে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী ২০১৮-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে এই পরামর্শ দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য উৎপাদন ধরে রাখতে সকলকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়লেও সংগ্রহোত্তর অপচয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে অনেক ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য উন্নত ব্যবস্থাপনা ও ছোট-মাঝারি শিল্প স্থাপন করতে হবে। তাহলে সারা বছর ফল পাওয়া যাবে। ফলে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক প্রয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল অবলম্বন ও কার্যকরী রাসায়নিক প্রয়োগ করতে হবে।
মোজাম্মেল হক বলেন, দেশের আবহাওয়ায় সারা বছর ফসল উৎপাদনের উপযোগী। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অধিক জনসংখ্যার মধ্যেও কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে; যা অনেক দেশের জন্য অনুকরণীয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বরে এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা চলবে ২৪ জুন পর্যন্ত্ম। এবারের প্রতিপাদ্য 'অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রা, ফলের পুষ্টি দেবে নতুন মাত্রা'। শুক্রবার (২২ জুন) ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পস্নাজা থেকে আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বর পর্যন্ত্ম বর্ণাঢ্যর্ যালি ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে 'মানব সম্পদ উন্নয়নে পুষ্টি সমৃদ্ধ ফলের অবদান' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালে কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলেছেন আমাদের প্রত্যেকের ভেষজ, ফলদ ও বনজ এ তিনটা গাছ পরিবার প্রতি রোপণ করি, তাহলে আমরা নিজেদের উপকার করব, দেশের উপকার করব, জলবায়ুর উপকার করব এবং মানব সভ্যতার জন্য অবদান রাখব। কাঁঠালের সম্পর্কে কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কাঁঠালকে আমাদের জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কাঁঠালের পুষ্টিগুণ অপরিসীম। গ্রামে যখন এক সময় খাবারের অভাব ছিল, তখন মেহনতি মানুষের পুষ্টির যোগান দিত কাঁঠাল। কাঁঠালের সব কিছুই ব্যবহার করা যায়। গ্রাফটিং এর মাধ্যমে কীভাবে অল্পদিনে কাঁঠাল পাওয়া যায়, এ বিষয়ে সম্প্রসারণ কাজ এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজস্ব ফলের জাতের উৎকর্ষ ঘটাতে হবে, পাশাপাশি বিদেশি ফলের অভিযোজন ঘটাতে পারলে আমরা সারা বছর ফল পাব।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুলস্নাহ্‌র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এনামুল হক। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীন। 
সেমিনারে কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক নির্মিত প্রতিপাদ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও জনগণকে সচেতন করতে পোস্টার, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফলদ বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মাসিক 'কৃষিকথা' পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা, জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বেতার ও টেলিভিশনে ফলদ বৃক্ষ রোপণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে ফলের চারা/কলম বিতরণ, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।
এবারের ফল মেলায় ৯টি সরকারি ও ৫১টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট ৮১টি স্টল রয়েছে। মেলায় আমের ১০২টি জাতসহ ৯৯ প্রজাতির ফল প্রদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রচলিত ফল ৫৪, অপ্রচলিত ৩৬ ও বিদেশি ফলের জাত ৯টি রয়েছে। এছাড়াও মেলায় রয়েছে জাতীয় ফল কাঁঠালের একটি বিশেষ কর্নার। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ফল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে এবং রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফল ক্রয় করতে পারবেন।