জামালপুরে হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

জামালপুরে চাঞ্চল্যকর আজাহার আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে ফাঁসি দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলার অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদয়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মো. শফিকুল ইসলাম সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। আর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ভাই মো. সুমন মিয়া, একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. জিন্নাহ ও মৃত হোসেন আলীর ছেলে আবু সামা। এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জিন্নাহর স্ত্রী হালিমা বেগম ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মা হবিরন বেগম। এই মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলম মামলা চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় আদালত তাকে এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো. শাহজাহান আলীর ভাতিজা হাসান মাসুদ প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে হিন্দি গানের একটি ক্যাসেট ধার দেন। ২০০২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসান মাসুদ ওই ক্যাসেটটি ফেরত আনতে সুমন মিয়ার বাড়িতে যান। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন মিয়া ও তার লোকজন হাসান মাসুদকে মারধর করে। হাসান মাসুদ বাড়িতে গিয়ে ঘটনা খুলে বললে মামলার বাদীর সহোদর ভাই আজাহার আলী ও পরিবারের লোকজন ঘটনা শুনতে সুমন মিয়াদের বাড়িতে গেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শফিকুল ইসলাম ও অন্যান্যরা রামদা, কিরিচ ও গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। এতে   আজাহার আলীসহ তার স্বজনরা ও তার বোন আহত হয়। পরে তাদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক আজাহার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরদিন ২১ নভেম্বর মৃত আজাহার আলীর ভাই মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ ২০০৫ সালের ৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। এরপরে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ বৃহস্পতিবার জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।