শেষ মুহূর্তে উত্তাপ বাড়ছে বরিশালে

July 24, 2018, 10:02 am নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে বরিশালে ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে পরিবেশ। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর মিলছে। নির্বাচন কমিশন কঠোর মনোভাব দেখালেও নগরীতে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে অপরিচিত মুখগুলোর। যদিও ২৬শে জুলাইয়ের পর অপরিচিতদের নগরী ত্যাগ করার নির্দেশ রয়েছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী অপরাধ বিচারে ৯ জন বিভাগীয় হাকিম নিয়োগ দিয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী  সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এক কাউন্সিলর প্রার্থী নৌকা উপহার দেয়ার সময় একই দলের অপর প্রার্থী তার উপর হামলা চালায়।

এতে বৈঠকটি শেষ না করেই মেয়র প্রার্থী চলে যান বলে জানা গেছে। একই দিন সকালে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন মাসুমের এজেন্টদের মারধোর করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা। এ নিয়ে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর দিকে আঙ্গুল তোলেন সালাউদ্দিন মাসুম। ১০নং ওয়ার্ডে প্রায় প্রতিদিনই হাঙ্গামার সংবাদ মিলছে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে। এরা দু’জনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ২১নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থককে রোববার গভীর রাতে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাতে ভোটারদের অর্থ দিচ্ছেলেন। ম্যাজিস্ট্রেট তার পকেট থেকে ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে। তবে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রশাসন জানতে পারে পুরো ঘটনাটি সাজানো। দরিদ্র ওই লোকটির পকেটে জোর করে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে পুলিশে সংবাদ দেয়া হয়। লোকটিকে শিখিয়ে দেয়া হয় সে যেন পুলিশকে বলে এ টাকা বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী আলতাফ মাহামুদ সিকদার তাকে দিয়েছে।

কিন্তু লোকটি প্রকৃত ঘটনা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে খুলে বললে গতকাল সকালে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে, নগরীতে হঠাৎ করেই মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে অপরিচিত যুবকদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। একসঙ্গে ২০/৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে তারা ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ঘুরছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ আর নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে যারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসছিল, মোটরসাইকেল বহরের ঘোরাফেরায় তারা আবার ঘরমুখী হচ্ছেন। গতকাল বিএনপির বেশ কয়েকটি উঠান বৈঠকে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কমে গেছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার অভিযোগ করে বলেন এখনই যদি নির্বাচন কমিশন দুর্বৃত্তদের লাগাম না টানেন তবে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষদের মধ্যে যে আগ্রহ তা শেষ হয়ে যাবে। তবে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ নির্বাচনী সংহিসতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, অন্য দুই সিটির চেয়ে বরিশালের নির্বাচনী পরিবশে শান্ত। এখানে সব প্রার্থী অবাধে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।