রাজশাহীর দুই প্রার্থীর টার্গেট বেকার ও নিম্নবিত্ত ভোটার

July 25, 2018, 11:36 am নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে সামনের দিকে এগোচ্ছে। দূরত্ব কমছে ৩০ তারিখের। নানা হিসাবনিকাশ কষছেন প্রার্থীরা। হিসাব করছে ভোটারও। প্রতিনিয়তই মাঠের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। ভোটের হাওয়ায় দুই প্রার্থীর পাল্লা দোল খাচ্ছে।
কখনো ধানের শীষ আবার কখনো নৌকার পাল্লা ভারি হচ্ছে। অনেকটা টানটান অবস্থা বিরাজ করছে প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে। প্রার্থী এবং তাদের কর্মীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৎপর আছেন মাঠে-ময়দানে। ভোটের জন্য দল বেঁধে চষে বেড়াচ্ছেন এবাড়ি ওবাড়ি। নিজেদের পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। রাত- দিন রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবিরাম চলছে প্রচারণা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে আসছে নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়ের পাল্লা ভারি করতে বেকার ও নিম্নবিত্ত ভোটারদের ভূমিকা বেশি থাকছে। এই দুই শ্রেণির ভোটারদের যে দল কাছে টানতে পারবে শেষ হাসি তারাই হাসবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেই সঙ্গে নারী ভোটারকেও প্যাক্ট হিসেবে দেখছেন প্রার্থী। রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৩৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার হচ্ছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩। এসব ভোটারের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি বেকার এবং আরো ৪০ হাজারের কাছাকাছি নিম্ন আয়ের মানুষ।

রাজশাহীকে শিক্ষা নগরী বলা হয়। দেশ সেরার তালিকায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখানে আছে। এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরুণ শিক্ষিত। অপর দিকে রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের জায়গা নগণ্য। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা এই নগরীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাকরির আশায় অনেকেই শিক্ষা জীবন শেষ করে বছরের পর বছর ঘরে বসে আছেন। সেই সঙ্গে নিম্ন আয়ের ভোটারও তাদের সুবিধা বেশি পাওয়ার উপর নির্ভর করবে তাদের ভোট প্রয়োগ। সঙ্গত কারণেই এই শ্রেণির ভোটারদের পাশে দুই প্রার্থী টার্গেট নিয়েই যাচ্ছেন। তাদের আশ্বস্ত করছেন। ভাগ্য বদলের কথা বলছেন।

ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এসব তরুণদের বেশির ভাগকেই কাছে টানতে পেরেছেন। তাদেরকে জোরালোভাবে কাজেও লাগাচ্ছেন। লিটনের পক্ষ থেকে এসব তরুণ লিফলেট নিয়ে প্রত্যেকের বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে। নৌকা মার্কার জয়ের জন্য অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছেন তারা। নৌকার প্রার্থী লিটন রাজশাহীর তরুণদের চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের মাঠে নামাতে পেরেছেন সফল ভাবে। তরুণদের তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, দীর্ঘদিন রাজশাহীর বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিম্ন পোস্টের কোনো নিয়োগ হয়নি। রাজনৈতিক কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিকসহ বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ আছে। তিনি নির্বাচিত হলে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবেন এবং বেকার তরুণদের এসব জায়গায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এমন আশ্বাসের ফলে নগরীর বিভিন্ন পাড়া- মহল্লার শত শত তরুণ নৌকার প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এদিকে রাজশাহী নগরীর গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের তরুণদের পাশাপাশি গ্রামের তরুণরা চাকরির আশায় নৌকার হয়ে কাজ করছেন। তাদের চাহিদা ছোটখাটো একটা চাকরি। নৌকার প্রার্থী লিটন এসব তরুণদের চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজের পক্ষে কাজে লাগাচ্ছেন। লিটনের পাশাপাশি একই কায়দায় একই আশ্বাসে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও এসব বেকার তরুণদের চাহিদা পূরণের আশ্বাস দিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন।

রাজশাহী নগরীর ভদ্রা, লক্ষ্মীপুর, জিরো পয়েন্ট, তালাইমারী এলাকায় কথা হয় বেশকিছু তরুণ-তরুণীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে মোনায়েম হোসেন, খায়রুল ইসলাম, জেসমিন আকতার, উম্মে কুলসুম, তাসকিয়া জাহান। তারা সবাই মাস্টার্স পাস। এদের মধ্যেই খায়রুল এবং তাসকিয়ার সরকারি চাকরির বয়স প্রায় শেষ। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তারা এখনো রেহায় পায়নি। এসব তরুণ-তরুণীরা বলছে যে, প্রার্থী তাদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেবেন তারা তাকেই ভোট দেবেন। এক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা তারা করবে না। তাদের দাবি রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য বেকারদের অবশ্যই কর্মমুখী করে তুলতে হবে।
বেকার তরুণদের পাশাপাশি দুই প্রার্থী খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। আসছে ভোটে এই শ্রেণির ভোটাররাও ফলাফল পাল্টে দিতে পারবে। এই হিসাব মাথায় রেখেই কাজ করছেন প্রার্থী এবং তাদের কর্মীরা।
এবিষয়ে কথা বলেন উইম্যান চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রোজেটি নাজনিন। তিনি বলেন, ‘আসছে নির্বাচনের যিনিই নগর পিতা নির্বাচিত হোন না কেন তাকে সর্বপ্রথম বেকারদের নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। যিনি বিজয়ী হবেন তার হাত দিয়েই রাজশাহীকে মডেল হিসেবে দেখতে চাই। তিনি বলেন, রাজশাহীর কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা যে ভাবে বিস্তৃত বাংলাদেশে অন্য কোথাও সে রকম নাই। সুতরাং যিনিই আমাদের মেয়র নির্বাচিত হোন না কেন তিনি যেন রাজশাহীকে বাংলাদেশের ম্যাপে বড় একটা জায়গায় পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং দিচ্ছেন নির্বাচিত হওয়ার পরে সেসব প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথ ভাবে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাবেন।

সুজন সভাপতি আহম্মেদ শফিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল হচ্ছে। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে বেকার তরুণদের কর্মমুখী ট্রেনিংয়ের উদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল মিল চালু করার জন্য প্রার্থীদের কাছে জোর দাবি উত্থাপন করেন।

সব মিলে ভয় শঙ্কা এবং আশা নিয়েই রাজশাহীর ভোটার এবং ভোট প্রার্থীরা আগামী ৩০ জুলাইয়ের দিকে চেয়ে আছেন। কে হবেন তাদের কাঙ্ক্ষিত নগর পিতা। কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা। সেই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন রাজশাহীবাসী।