আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে সাজা, হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা ম্যাজিস্ট্রেটের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

তলব আদেশে হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল মাহমুদ। বুধবার বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চে তিনি হাজিরা দেন। একইসঙ্গে ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত তাকে লিখিত ব্যাখ্যাসহ ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন দাখিল করতে বলেছেন। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে একটি মামলায় এক ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় গত ১৬ জুলাই হাইকোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করে।
 
এই তলব আদেশে বুধবার সকাল ১১টায় ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল মাহমুদ আদালতে হাজির হন। তার পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন। এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। এ  পর্যায়ে আদালত বলেন, অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের আদেশ অমান্য করে এক ব্যক্তিকে সাজা দিয়ে বলছেন ভুল করেছি, ক্ষমা করে দিন। এটা কি শুধুই ভুল, অমার্জনীয় ভুল। আর কোন এখতিয়ার বলে এই রায় দিয়েছেন? শুনানি শেষে হাইকোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মামলার নথি তলব করেছেন। আদালতে রিটকারী হাবিবুর রহমানের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান শুনানি করেন।
 
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের অধিবাসী হাবিবুর রহমান পতুল ১৫ লক্ষ টাকা ধার নেন বলে অভিযোগ করেন উকিলপারা গ্রামের অধিবাসী আপ্তাব উদ্দিন ছেনু। পরবর্তীকালে তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৯ মার্চ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দশ লক্ষ টাকার চেক প্রতারণার মামলা করেন ছেনু। এই মামলায় ওই বছরের ১৮ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল মাহমুদ। অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. খাদেম উল কায়েস এর আদালতে রিভিশন মামলা করেন হাবিব।
 
রিভিশন আবেদনে বলা হয়, এই মামলার পূর্বে ছেনু মিয়া ২০১৬ সালের ১৯ জুন হাবিবের বিরুদ্ধে একই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। যদিও হাইকোর্ট ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এ ছাড়া একই ঘটনায় দু’টি মামলা করার আইনগত কোন সুযোগ নেই। এরপরেও আসামির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। রিভিশন মামলার শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে দেয় দায়রা জজ আদালত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেয়া এই আদেশ উপেক্ষা করে ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল মাহমুদ গত ১১ জুন চেক প্রতারণার মামলায় হাবিবকে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করে।