৩৩ দফা ইশতেহার, কাঁদলেন কামরান

July 26, 2018, 1:09 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

‘ডিজিটাল নগর’ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর, যানজট নিরসন, ছড়া ও খাল উদ্ধার করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেন তিনি। বুধবার দুপুরে সিলেটের নির্ভানা ইনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহারে কামরান সিলেট নগরীর প্রধান চারটি সমস্যা সম্পর্কে বিশেষ আলোকপাত করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন- যানজট দূর করতে রাস্তা প্রশস্তকরণের পাশাপাশি অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে খালি স্থানে নেয়া হবে।

ফুটপাথকে হকারমুক্ত করার পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ছড়া ও খাল উদ্ধার এবং সুরমা নদীকে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ ও পানি সংকট দূর করতে পুরাতন ওয়াটার প্লান্টের সংস্কার ও নতুন প্লান্ট স্থাপন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্য সচিব ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ উদ্দিন আহমদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার শেষ পর্যায়ে কামরান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন- ‘আমি দীর্ঘদিন আপনাদের নিয়ে কাজ করেছি। কারো কোনো ক্ষতি করিনি। জীবনের শেষ বয়সে এসে আপনাদের সহযোগিতা চাই।’ কামরানের নির্বাচনী ৩৩ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ হচ্ছে- ফুটপাথ হকারমুক্ত করা ও উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ৪টি হাকার্স মার্কেট প্রতিষ্ঠা, দখল হওয়া ছড়া-খাল উদ্ধার ও খনন করা, সুরমা নদী ড্রেজিং করা, গ্যাস সংযোগ চালুর উদ্যোগ, শতভাগ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা ও মহিলাদের জন্য আলাদা পরিবহন, সৌন্দর্যবর্ধন, বর্তমান কারাগারের জায়গায় আধুনিক নগরপার্ক নির্মাণ, টেমসের আদলে সুরমার দুইপাড় আধুনিকায়ন, খেলার মাঠ, দীঘি, টিলা সুরক্ষা, অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন, কারিগরি শিক্ষা ও উন্নত প্রশিক্ষণ, শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও স্বাবলম্বী করে তুলতে উদ্যোগ নেয়া, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন, প্রবাসীদের হয়রানি রোধে ও বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা, সিলেট নগরকে গ্রীন সিটি হিসাবে গড়ে তোলা, প্রতিটি ওয়ার্ডে আবর্জনা যথাসময়ে অপসারণ করা প্রভৃতি। সিলেটের গ্যাস সংযোগ বন্ধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহারে তুলে ধরেন কামরান। তিনি বলেন, গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় সিলেটের আবাস ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ না থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে। নগরের গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সিলেট নগরীর দীঘি, টিলা ও আর খেলার মাঠ যেগুলো এখনো টিকে আছে সেগুলোকে সংরক্ষণের চেষ্টা করবেন বলে জানান। সেই সঙ্গে নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান। ইশতেহারে কামরান জানান- সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়ায় পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিলেটবাসী। হবে-হচ্ছে বেড়াজালে বন্দি থাকা সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। নতুন কোনো করারোপ ছাড়াই নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে বলে ইশতেহারে জানান তিনি। যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। ওয়ার্ড ভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নগরবাসীকেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। নগরের বিশেষ অর্থনৈতিক জোন বা আধুনিক শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে। শিল্পে বিনিয়োগে প্রবাসীদের আকৃষ্টি করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে কামরান বলেন- নগরীর মৌলিক অধিকার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সিলেটেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেন কামরান।