‘উন্নয়ন’ তর্কে সিলেটে ঘুরে ফিরে সাইফুর-মুহিতের নাম

July 28, 2018, 9:50 am নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

উন্নয়ন তর্কে জমে উঠেছে সিলেটে নির্বাচনী মাঠ। আলোচনায় এসেছে কামরান ও আরিফের ঘোষিত ইশতেহারও। কার ইশতেহার কতটুকু চমকপূর্ণ সেটিরও হিসেব মেলাচ্ছেন ভোটাররা। আর উন্নয়ন বিতর্কের কারণে ইশতেহার নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন প্রার্থীরা। একই সঙ্গে সিলেট উন্নয়নের দুই ‘কারিগর’ সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উন্নয়নও আলোচিত হচ্ছে এই নির্বাচনে। এদিকে- বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ঘোষিত ইশতেহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

তিনি বলেছেন- তার ইশতেহার অর্ধেক চুরি করে বিএনপির প্রার্থীর ইশতেহারে সংযোজন করা হয়েছে।

আর আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন- কামরান ঘোষিত ইশতেহারের অনেক বিষয়ই ইতিমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। সিলেটের নির্বাচনী রণাঙ্গনে এখন অন্তিম মুহূর্ত। আজ শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। সিলেটের নির্বাচনী প্রচারণায় এবার উন্নয়ন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। আর এই বিতর্কে বাড়তি রসদ যোগাচ্ছেন প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। বুধবার সিলেটে ৩৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ঘোষিত ইশতেহারে কামরান- জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ছড়া-খাল উদ্ধার ও খনন, সুরমা নদী খনন। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে যানজটমুক্ত সিলেট নগরী গড়ে তোলা, লিংক রোড স্থাপন, ফুটপাথ ও হকারমুক্ত করা ও উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বাসন, গ্যাস সংযোগ, শতভাগ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারী-পুরুষের আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, নতুন কর আরোপ না করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের জন্য নগরভবনে হেল্প ডেস্ক। বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তার ঘোষিত ইশতেহারের মধ্য রয়েছে- এই ‘নতুন সিলেট’ হবে পরিচ্ছন্ন, থাকবে না কোনো যানজট। ‘নতুন সিলেটে’ থাকবে মেট্রোরেল কিংবা টিউব (আন্ডারগ্রাউন্ড রেল)। থাকবে না তারের জঞ্জাল, তার যাবে আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে। ‘নতুন সিলেটে’ থাকবে খোলা উদ্যান, বহুতল বিশিষ্ট কার পার্কিং ভবন, মার্কেটে মার্কেটে হেঁটে হেঁটে শপিং করবেন নাগরিকরা, পাশাপাশি থাকবেন বিদেশি পর্যটকরা।’ নতুন সিলেটে থাকবে ‘সিলেট টাওয়ার’। এই উঁচুতম স্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হবে অন্যরকম এক আবহ। যেখানে উপস্থাপিত হবে সিলেটের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি। সিলেট টাওয়ারের উপর দাঁড়িয়ে পর্যটকরা শুধু সিলেটের উঁচু-নিচু টিলা আর সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখেই মুগ্ধ হবেন না, তাদের জন্য সেখানেই থাকবে এক টুকরো মিনি সিলেট।’ গতকাল নির্বাচনী প্রচারণাকালে গুলশান এলাকার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামরান। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন- আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটে যে উন্নয়ন করেছেন সেই উন্নয়ন হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের টাকায়। অথচ আরিফুল হক তাদের কথা স্বীকার করছেন না। তিনি বলেন- ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি সিলেট নগরীতে অনেক উন্নয়ন করেছেন। শ’শ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ ও টাকা ছাড় করলেও তিনি সময়ের অভাবে কাজ করাতে পারেননি। পরে আরিফুল হক চৌধুরী এসে সেই টাকায় উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। আর এখন সব উন্নয়নকে তার উন্নয়ন বলে সিলেটবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করছেন। তিনি বলেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাত ধরে সিলেটে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন উন্নয়নের মহাসড়কে সিলেট। আর আরিফুল হক চৌধুরী সরকারের উন্নয়নকে তার বলে প্রচারণা করছেন। অপরদিকে, আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন- বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নগরীর উন্নয়ন দেখছেন, কিন্তু ঘটে যাওয়া উন্নয়ন তিনি তার ইশতেহারে সংযুক্ত করেছেন। সিলেটের জলাবদ্ধতা নেই, যানজটও কমে এসেছে, পানি সংকট দূর হয়েছে, হকার সমস্যাও মিটে যাচ্ছে। এই সময়ে এসে তিনি (কামরান) আবার তার ইশতেহারে এসব বিষয় সংযুক্ত করেছেন। সিলেট উন্নয়নের মূল পরিকল্পনা তুলে ধরে কাজ শুরু করেছিলেন সিলেট-১ আসনের এমপি ও প্রয়াত স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। পরবর্তীতে তার পরিকল্পনা মতো সিলেটে উন্নয়ন ঘটিয়ে নজর কাড়েন প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিগত ৯ বছরে সিলেট কারাগার স্থাপন, কাজিরবাজার সেতু নির্মাণ, বিমানবন্দর উন্নয়নসহ কয়েকটি মেঘা উন্নয়ন ঘটিয়ে নজর কেড়েছেন সবার। পাশাপাশি সিলেট নগরীতেও তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘটান। এদিকে- উন্নয়ন নিয়ে সিলেটের সবখানেই আলোচনা চলছে। কে বেশি উন্নয়ন করেছেন সেই বিতর্কে বেড়াজালে পড়েছে এবারের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনও। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সিলেট জেলার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- যেসব প্রার্থী ইশতেহার দিয়েছেন সবই আমরা দেখেছি। এখন দাবি হচ্ছে যে পাস করবেন তার ইশতেহার যেন সিটি করপোরেশনে টানিয়ে রাখেন। আর কবে কোন কাজ বাস্তবায়ন করছেন সেটি যেন তারা প্রকাশ করেন। এতে করে স্বচ্ছতার বিষয়টি থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।