মিডিয়েটর নিয়োগে জাপানকে অনুসরণের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এখনো আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করা যায়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি দেশের আদালতগুলোর বিশাল মামলা জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন এবং মিডিয়েটর নিয়োগে জাপানকে অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ তাগিদ দেন তিনি।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালায় ৭০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলা রয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার।  প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে এত বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এই বিশাল মামলা জট নিরসনে বিকল্প পদ্ধতিতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কার্যকর পন্থা উদ্ভাবন করতে হবে।

মামলা জট নিরসনের জন্য সঠিকভাবে মামলা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রচলিত মামলা ব্যবস্থাপনাতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে বিচারপূর্ব শুনানি ও প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করা হলে দেওয়ানি মামলা দ্রুততম সময়ে বিকল্প পদ্ধতিতে কিংবা সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথ সহজ হবে।’ এ জন্য বিচারকদের আইনের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং আইনজীবীদের এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে জানান মন্ত্রী।

‌বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দক্ষ, বলিষ্ঠ ও কর্মনিষ্ঠ মিডিয়েটর শ্রেণী তৈরি করা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলার জেলা জজগণকে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী মিডিয়েটরদের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাপানে মিডিয়েটর নিয়োগ ও নবায়নে যে ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয় আমাদেরও একই ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তালিকাভুক্ত মিডিয়েটর ও বিচারকদের এ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

বিভিন্ন কারণে বর্তমানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় প্রকৃতির মামলা দায়েরের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এ হার বিকল্প উপায়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করে এতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা পর্যালোচনায় স্পষ্টত দেখা যায়, আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা এখনো আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারিনি।’

‘এ পদ্ধতিকে কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় আমরা প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করতে চাই। আমরা আশা করি, জাপান এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

বাংলাদেশ-জাপান সুপ্রাচীন বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর প্রথম যে কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে, জাপান তার মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য জাপান বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। ১৯৮০ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা দানকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপান সর্বোচ্চ দাতাদেশ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাপান ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাবে।’

আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ, জাপানের চুকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কাজুতো ইনাবা, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিপ্রিজেন্টেটিভ হিরোইকি ইতো, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার শাহা ও উম্মে কুলসুম বক্তৃতা করেন।