তিন জেলায় ‘বন্দুকযুুদ্ধে’ নিহত ৩

July 29, 2018, 3:18 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন জেলায় তিন জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে কুমিল্লা, বরগুনা ও সাতক্ষারীয় এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লায় র‌্যাব-বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৭ মামলার আসামি সহিদুল হক ওরফে সবু মিয়া নামে শীর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে নগরীর কাপ্তানবাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। নিহত সবু মিয়া সদর দক্ষিণ উপজেলার একবালিয়া গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব জানায়, শুক্রবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র‌্যাব এবং বিজিবির পৃথক টহল টিম নগরীর কাপ্তানবাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় র‌্যাব ও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের উপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে সহিদুল হক (৪০) গুরুতর আহত হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আতাউর রহমান জানান, সহিদুল হক সবু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ২০টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৭টি মামলা রয়েছে।
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, পাথরঘাটা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মাঝেরচর এলাকায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৮ এর সঙ্গে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে কাজল নামের এক জলদস্যু নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার (২৮শে জুলাই) ভোরে সাড়ে ৫টার দিকে র‌্যাব-৮ এর সঙ্গে জলদস্যুদের বন্ধুকযুদ্ধ হয়। তখন কাজল নামে এক জলদস্যু নিহত হয়। জলদস্যু কাজল জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, শ্যামনগরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একাধিক মামলার আসামি, আন্তঃদেশীয় মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা মাদক সম্রাট রেজাউল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দেড়টার দিকে উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের খানপুর বাজার সংলগ্ন কালভার্টের পাশে বন্দুকযুদ্ধে রেজাউল নিহত হয়। সে সদর ইউনিয়নের বাদঘাটা গ্রামের আবদুল মাজেদ দফাদারের ছেলে। এসময় পুলিশের এসআই শংকর, বুলবুল ও এএসআই মনিরুজ্জামান আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি ওয়ান শুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি, ৮টি গুলির খোসা, রামদা ও ছোরা উদ্ধার করেন।

জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান, মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা রেজাউল ইসলামকে ঢাকার পল্লবী থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার একটি গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে শ্যামনগর থানা পুলিশ তাকে শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চোরচক্রের আরও তিন সদস্য শামীম, শাহজাহান ও সাহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি চোরাই মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই, গুম ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা আছে।